বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে-তুং-এর ৫০তম প্রয়াণ দিবস পালিত হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাও সে-তুং-এর মৃত্যুর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর চীনের এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী।
বিশ্বের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মানুষকে কমিউনিস্ট পার্টির শাসনের অধীনে আনা এই বিপ্লবী নেতার ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৮২ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটেছিল।
মার্কসবাদ-লেনিনবাদে তার তাত্ত্বিক অবদান, সমর কৌশল এবং তার কমিউনিজমের নীতি এখন একত্রে মাওবাদ নামে পরিচিত। তাকে অনেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ‘জাতির জনক’ বলে অভিহিত করেন।
বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে এখনো মাও-র ছয় মিটার উঁচু প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছে এবং তার স্মৃতিসৌধে প্রতিদিন শ্রদ্ধা জানান হাজারো মানুষ।
চীনে প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও, দেশটিতে মাও-এর জনপ্রিয়তা এখনো সর্বোচ্চ অবস্থানে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের তরুণ প্রজন্ম মাও সে-তুং-কে তাদের ‘লাইফ কোচ’ বা জীবন-পরামর্শদাতা হিসেবে নতুন করে আবিষ্কার করেছে।
তরুণ প্রজন্ম মাও-এর রচনাবলি নিয়ে অনলাইনে ‘বুক ক্লাব’ বা পাঠচক্রের আয়োজন করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভিডিওর মাধ্যমে তার আদর্শ প্রচার করছে এবং তাকে ভালোবেসে ‘জিয়াওইউয়ান’ অর্থাৎ ‘শিক্ষক’-বলে সম্বোধন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রায়শই তার মতাদর্শের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যখন চীনা পণ্যের ওপর ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, তখন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ‘জিয়াওইউয়ান’ শব্দটি দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। পাশাপাশি তারা সাম্রাজ্যবাদকে মাও-এর অন্যতম বিখ্যাত স্লোগান অনুযায়ী ‘কাগজের বাঘ’ (paper tiger) হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।



