Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চৈত্র সংক্রান্তির খাদ্য তালিকার শিক্ষা

ধারণাগতভাবে বাংলায় ‘সংক্রান্তি’র ধারণায় পুরনো বছরের খারাপ কিছু নেই। বরং পুরনো মানেই সব খারাপ ‘সংক্রান্তি’ এমন ভাবনার না

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২২, ১০:০৯ এএম

আমাদের বর্ষ শেষের উৎসব আছে। আছে বর্ষ শুরুর উৎসবও। এভাবে বাংলার ঋতু বারবার ফিরে ফিরে আসে। চক্রের মতো এর আসা-যাওয়া। বৃত্তের যেকোনো বিন্দুর মতো। যেখানে শেষ, সেই সেখানেই বৃত্তেরই আরম্ভ। যা এক অর্থে শেষ। আবার শুরুও।

ধারণাগতভাবে বাংলায় ‘‘সংক্রান্তি’’র ধারণায় পুরনো বছরের খারাপ কিছু নেই। বরং পুরনো মানেই সব খারাপ ‘‘সংক্রান্তি’’ এমন ভাবনার না। পুরাতনকে নতুন করে তোলার মধ্য দিয়ে সনাতনকে বজায় রাখাই বাংলায় সংক্রান্তির মূল ভাবনা।

শুধু খাদ্য দিয়েই বিষয়টার বিচার হতে পারে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন বাড়িতে চৌদ্দ রকমের শাক রান্না হতো। যার মধ্যে অন্তত পক্ষে একটি শাক বেশ তিতা হতে হবে। তিতা শাক হিসেবে চৈত্র মাসে গিমা শাক খেতে হতো। এই গিমা শাক মিলতো কাছেই। বাড়ির আশে পাশে, পুকুর পাড়ে, জমিতে কিংবা রাস্তার ধারেও। এর অর্থ কী এমন যে, প্রকৃতি খোঁজ নিতে চাইছে তার অনাবাদী অংশ ঠিক আছে কি-না?

চৈত্র সংক্রান্তির দিন গ্রামের মেয়েরা শাক কুড়াতে বের হতেন। আচার ছিল চৌদ্দ রকম শাক কুড়াতে হবে। চৌদ্দ রকম এই শাকের নামের মধ্যে জানতে পাই- নেটাপেটা, কলমি, হেলেঞ্চা, গিমা, দন্ডকলস, কচু শাক, তেলাকুচা, ঢেঁকি শাক, হেঞ্চি, বতুয়া, খারকুন, খুইরাকাটা, পিপুল শাক, কস্তুরি, থানকুনি, খেতাফাটা, পাট শাক, শুশ্নি, নুনিয়া, হাগড়া  ইত্যাদি। অর্থাৎ খাদ্যে এমন প্রথা যেন বলতে চায় ‘‘উন্নয়ন’’, ‘‘দারিদ্র্য বিমোচন’’ সত্যিই করতে হলে বিশাল গরিব জনগোষ্টী ও প্রকৃতির সকল অংশের বেঁচে থাকার পরিবেশও রক্ষা করতে হবে।  

চৈত্র সংক্রান্তির খাদ্য তালিকায় শাক ছাড়া আরও ছিল ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু। এও যেন শিক্ষা দেয় যে, কেবল আবাদী সবজি খেলে শরীর টিকবে না। খেতে হবে বৈচিত্র্যপূর্ণ নানান রকম শাক, সবজি, ফল, মূল, ইত্যাদি।

গাছই প্রকৃতির প্রধান ‘‘উৎপাদক’’। প্রকৃতিও চক্রের অধীন। নেই কোনো কিছুতে কোনো বিচ্ছন্নতা। চৈত্রসংক্রান্তির খাদ্য তালিকার ছোট্ট এক শিক্ষা যেন এই।

   

About

Popular Links

x