Wednesday, June 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পৃথিবীর সেরা পাঁচটি শহর

বিলাসবহুল জীবনযাপনের ক্ষেত্রে টানা চতুর্থবারের মতো এশিয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঞ্চলের স্বীকৃতি পেয়েছে

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ০৮:৪৭ পিএম

সিঙ্গাপুর অনেকদিন ধরেই ধনীদের জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছিল। অবশেষে দেশটি সেই উদ্দেশ্যে সফল হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ প্রথমবারের মতো বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর সিটি।

সুইস সম্পদ ব্যবস্থাপক জুলিয়াস বেয়ার গ্রুপ লিমিটেডের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সাংহাই (দ্বিতীয়) এবং হংকংকে (তৃতীয়) টপকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুর। ২০২২ সালে এ তালিকায় দেশটির অবস্থান ছিল পঞ্চম।

করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালে এশিয়ার যেসব দেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল, তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুর ছিল শুরুর দিকেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে আনুমানিক দেড় হাজার ফ্যামিলি অফিস পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। বলে রাখা ভালো,  ফ্যামিলি অফিস হলো ধনী ব্যক্তি বা পরিবারদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান।  এছাড়া, গাড়ির দামের জন্য দিক থেকেও এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর।

সিঙ্গাপুরে দর্শনার্থীরা/সংগৃহীত

মঙ্গলবারে (২০ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ জীবনযাত্রার মান এবং স্থানীয় অবকাঠামোর বাড়তি চাহিদার কারণে এখানে জীবনযাপনের ব্যয় অত্যন্ত বেশি। এখানে আবাসন সম্পত্তির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। সেই সঙ্গে উচ্চ করের গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বীমা ব্যয়ও অন্যান্য দেশের তুলনায় যথাক্রমে ১৩৩% এবং ১০৯% বেশি।

আবাসন সম্পত্তি, গাড়ি, বিজনেস ক্লাস ফ্লাইট, বিজনেস স্কুল, ডিগস্টেশন ডিনার (রাজকীয় সুস্বাদু নৈশভোজ) এবং অন্যান্য বিলাসিতার ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করে জুলিয়াস বেয়ারের লাইফস্টাইল সূচক বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২৫টি শহরের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিলাসবহুল জীবনযাপনের ক্ষেত্রে টানা চতুর্থবারের মতো এশিয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঞ্চলের স্বীকৃতি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্ট্যাচু অব লিবার্টি/সংগৃহীত

এ তালিকায় বেশ পেছন থেকে তালিকার ওপরের দিকে উঠে আসা শহরের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক। মুদ্রার মান বাড়িয়ে এবং কোভিড মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ শহরটি পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে। আগের বছর এ তালিকায় নিউইয়র্কের অবস্থান ছিল একাদশ।

তবে অবনতি হয়েছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের। আগের বছর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও এবার তালিকার চারে নেমে গেছে শহরটি। জুলিয়াস বেয়ারের ভাষ্যমতে, ব্রেক্সিট এবং পরবর্তী অশান্তি যুক্তরাজ্যের সুনামকে ক্ষুণ্ন করে চলেছে। এর ফলে দুবাই এবং সিঙ্গাপুরের মতো ক্রমবর্ধমান আর্থিকভাবে শক্তিশালী শহরগুলোর সঙ্গে লন্ডন তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন/রয়টার্স

প্রতিবেদন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো সাশ্রয়ী জীবনযাপনের জন্য ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, ইউরোপিয়ান দেশের শহরগুলোর অবস্থান শুধু পিছিয়েছেই। তালিকায় প্রথমবারের মতো শীর্ষ দশে উঠে এসেছে দুবাই (৭ম)। দুবাইয়ের উন্নতিতে ১৪তম অবস্থানে নেমে গেছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ।  

জরিপে বলা হয়, মহামারির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর ভ্রমণ ও বিনোদনের চাহিদা বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পর নতুন অনেক কিছুতেই মানুষের ব্যয় বেড়েছে।   

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি মূল্যের পারিবারিক সম্পদের মালিক উচ্চবিত্ত শ্রেণির ব্যক্তিদের ওপর জরিপটি পরিচালনা করেছেন।

   

About

Popular Links

x