Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১৬ নদীতে ঘেরা টাঙ্গাইলে নৌকার হাট ৩২টি

একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে ৮ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৩, ০৪:৫৪ পিএম

সভ্যতার ক্রমবিকাশে নদীর কাছে চিরকালই ঋণী মানুষ। বাংলাদেশকে একসময় নদীমাতৃক দেশ বলা হলেও দখল, দূষণ আর শোষণে নদীর অবস্থা বর্তমানে বেশ নাজুক। বর্ষাকাল ছাড়া নদী দেখতে কেমন তা হয়তো অনেকে বলতেই পারবেন না। এই মৌসুমেই একমাত্র নদীকেন্দ্রিক জীবনযাপনের তৎপরতা দেখা যায় নদী তীরের জনপদে।

এসব এলাকায় নৌকাই বর্ষার ভরসা। নদীর পানি বাড়লে ভাসতে থাকে ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা, তাই কারিগরেরাও এ সময়ে দম ফেলার সময় পান না।

দেশের অন্যতম নদীবিধৌত জেলা টাঙ্গাইল। পাউবোর তথ্য বলছে, জেলায় ছোট-বড় ১৬টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে ধলেশ্বরী, বংশী, যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, লৌহজং, বৈরান, নাংলী, এলংজানি, হাওয়া, টংকি, নাঙ্গলা, পুরনো ধলেশ্বরী, চাপাই, গোয়াইল্যা, বোশখালী নদী উল্লখেযোগ্য।

তাই এই জেলায় নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকাও গড়ে উঠেছে। নৌকা তৈরির জন্যও তাই টাঙ্গাইল সুপরিচিত। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় সব নদ-নদীতে বেড়েছে পানি। তাই নৌকা কারিগরদের এখন সুসময়।  

নৌ যোগাযোগের ক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে মধুপুর ব্যতিক্রম। বাকি ১১টি উপজেলায়ই বর্ষায় মানুষের এক ভরসার নাম নৌকা। তাই মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার ৩২টি নৌকার হাট এখন জমজমাট। এসব হাটে বিক্রি হওয়া নৌকাগুলো তৈরি করেন স্থানীয় কারিগররাই।

কারিগরদের এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কেউ উঠোনের খালি জায়গায়, কেউ কেউ হাটের পাশেই নৌকা তৈরি করছেন। কাঠ চেরাই ও মসৃণ করা, তক্তা বানানো ও জোড়া দেওয়ার কাজ চলছে পুরোদমে।

কথা হয় বলরাম সূত্রধর, বিশ্বজিৎ সূত্রধর, স্বপন সূত্রধর, পলাশ সূত্রধরসহ বেশ কয়েকজন সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, এখন প্রায় প্রত্যেক এলাকায় পাকা রাস্তা হয়েছে। ফলে দূরযাত্রায় আর বড় নৌকার প্রয়োজন নেই। বর্ষায় এপাড়া থেকে ওপাড়ায় যাতায়াতের জন্য ছোট ছোট নৌকার প্রয়োজন হয়। তাই তারা ছোট ছোট নৌকা তৈরি করেন।

তারা বলেন, “বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরির কাজ করেই তাদের সংসার চলে। ছোট সময় থেকে বাপ-দাদার কাছে হাতেখড়ি নিয়েছেন। কাঠমিস্ত্রির কাজ করা তাদের নেশা ও পেশা। একটি নৌকা তৈরিতে তিনজন মানুষের দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগে।”

বাসাইল উপজেলার মিরিকপুর গ্রামের প্রফুল্ল সূত্রধর দীর্ঘ ৫৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। ছোটবেলায় হাতুড়ি ও বাটালের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পেটের দায়েই এই পেশায় যুক্ত হন তিনি।

প্রফুল্ল বলেন, “একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে ৮ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়।”

প্রসঙ্গত, দেশে দিনদিন কমে যাচ্ছে নদীর সংখ্যা। ১৯৬৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশে নদ-নদীর সংখ্যা কত কমলো, সেই সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা ২০১০ সালে প্রকাশ করে বাংলাদেশ দুর্যোগ ফোরাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের একদল গবেষক তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে বলা হয়, দেশের ১১৫টি নদ-নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায়।

অন্যদিকে নদী, পানি-প্রকৃতি নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন উত্তরণের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৪৩টি নদী শুকিয়ে গেছে। 

দেশে ঠিক এই সময়ে কতটি নদী রয়েছে তার সঠিক সমীক্ষা নেই। একেটি সংগঠন ও সংস্থা একেক রকম তথ্য দিয়ে থাকে। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি সিলেটে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধৈুরী জানান, দেশে বর্তমানে নদীর সংখ্যা ৮৫৭টি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০১১ সালে বাংলাদেশের নদ-নদী শীর্ষক ছয় খণ্ডের একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়, নদ-নদীর মোট সংখ্যা ৪০৫টি।

দেশে বেড়েছে নদী দখলদারের সংখ্যাও। নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী দেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৮ হাজার। সংস্থাটির ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দখলদারের সংখ্যা ৬৩,২৪৯ জন বলে জানানো হয়েছিল।

   

About

Popular Links

x