Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধানমন্ডির সেরা কিছু বুফে রেস্টুরেন্ট

ভোজনরসিকদের অনেকেরই অভিরুচি থাকতে পারে একসঙ্গে হরেক পদ খাবারের সম্ভার দেখার। ধানমন্ডির এই বুফে রেস্টুরেন্টগুলো সেই সাধ মেটাতে সক্ষম

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২৬ পিএম

যখন খাবারের সঙ্গে যুক্ত হয় মুখরোচক শব্দের, তখন শুধু ক্ষুধা নিবারণই সেখানে একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। পেট-চুক্তির স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্রয়ে কোনো রকম ভণিতা ছাড়াই উন্মোচিত হয় বিনোদনের প্রবারণা। আর এখানেই ভোজন রসিক শব্দের সার্থকতা। খাবারের চিত্তাকর্ষক সংগ্রহশালা উদ্দীপনার সঙ্গে সঙ্গে জিভেও যেন জোয়ার তোলে। আর সেটাকে জলোচ্ছ্বাসে রূপ দিতেই যেন বুফের বিকাশ, যা এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ভোজন পদ্ধতি। বিশেষ করে রাজধানীর ধানমন্ডি রীতিমতো বুফে পাড়ায় পরিণত হয়েছে। দেখে নেওয়াক ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার সেরা কিছু বুফে রেস্টুরেন্ট।

৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে বুফে রেস্টুরেন্ট

টেস্ট ব্লাস্ট

বুফে প্যাকেজগুলো বেশ নাগালের মধ্যে থাকায় বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে এই টেস্ট ব্লাস্ট। তাদের দুপুরের ৫৫০ টাকার প্যাকেজে আইটেম আছে ৫৫+। আর রাতের ৬৫+ আইটেমের জন্য খরচ করতে হবে ৬০০ টাকা। ৩ থেকে ৬ বছরের বাচ্চাদের জন্য এই খরচটা অর্ধেক হয়ে যায়।

রেস্টুরেন্টটির অবস্থান সাতমসজিদ রোডের ধানমন্ডি ৯/এ, ৭৩৬ র‍্যাংগস কেবি স্কয়ারের লেভেল ১০-এ।

দুপুরের বুফের জন্য নির্ধারিত সময় দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর রাতের পর্ব সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। আগে থেকে যোগাযোগের জন্য ফোন দেওয়া যেতে পারে। বিস্তারিত মেনুর জন্য ঘুরে আসুন তাদের ফেসবুক পেজটি।

জেনিয়াল বুফে

টেস্ট ব্লাস্টের মাত্র দুই তলা নিচেই এই রেস্টুরেন্টটি জন্মদিনসহ বিভিন্ন ছোট ছোট পার্টির জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পেছনে মূল কারণ সাশ্রয়ী বুফে প্যাকেজ। ৭০+ আইটেমে জন্য দুপুর-রাতে উভয় বুফের দাম ৫৯৯ টাকা। ৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের জন্য এই মূল্য থেকে আরও ৫০% ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়।

রেস্টুরেন্টটির অতিথি ধারণক্ষমতা ১৩০+, তাই আগে থেকেই নিজের আসনটি রিজার্ভ করে নিতে হবে। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজনের জন্য বরাদ্দ। আর নৈশভোজ চলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। যাওয়ার আগে তাদের ফেসবুক পেজ থেকে মেনুগুলো দেখে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বুফে ম্যানিয়া

বাজেট বুফে রেস্টুরেন্টলোর মধ্যে বেশ কম সময়েই সুনাম অর্জন করেছে বুফে ম্যানিয়া। এখানে দুপুরের বুফেতে ৭০+ আইটেমের জন্য জনপ্রতি খরচ করতে হবে ৫৯৯ টাকা। অন্যদিকে রাতের ৬৯৯ টাকার প্যাকেজে উপভোগ করা যাবে ৮০-এরও বেশি আইটেম। দুই প্যাকেজেই কোনো খরচ ছাড়াই ইচ্ছেমত ড্রিংক্স অর্ডার করা যায়।

এখানে খাবারের জন্য দেড় শতাধিক অতিথি বসতে পারেন। তাই ফোন করে সিট রিজার্ভ করে নেওয়াটা সবচেয়ে ভালো। তাদের কন্টাক্ট নাম্বার ০১৭৯৮৮৯৭৫৭৭। এছাড়া বুফে ম্যানিয়ার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারেও নক দিয়ে সিট ও মেনু সম্বন্ধে বিস্তারিত জানা যাবে।

মধ্যাহ্নভোজনের সময়সীমা দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা। আর রাতের খাবারের সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।

এই বুফেগুলো উপভোগ করতে হলে যেতে হবে সাত মসজিদ রোডের নাভানা জিএইচ হাইটস্-এর লেভেল ৯-এ।

ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

বুফে স্টোরিস

সঠিক মূল্য দিয়ে তা পুরোপুরি পুষিয়ে নিতে হলে অনায়াসেই চলে যেতে পারেন বুফে স্টোরিসে। ৯০টিরও বেশি আইটেম দিয়ে সাজানো তাদের দুপুরের বুফেটি জনপ্রতি ৬৯৯ টাকা। ৭৯৯ টাকার রাতের বুফেতে থাকছে ১০৫টিরও বেশি আইটেম। এগুলোতে আলাদা করে ভ্যাটসহ অন্যান্য খরচের কথা ভাবতে হবে না।

যেকোনো স্পট রিজার্ভ করার জন্য অথবা অন্যান্য তথ্যের জন্য তাদের ফেসবুক পেজটি দেখে নিতে পারেন।

প্রচণ্ড ভিড় এড়াতে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মধ্যাহ্নভোজের সময়টিকে খেয়াল রেখে আগে ভাগেই চলে যেতে হবে। এটি সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার নৈশভোজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

রেস্টুরেন্টটির অবস্থান সাতমসজিদ রোডের ১০/এ সংলগ্ন অংশের ৫৪ নম্বর বাড়ি তথা ইম্পেরিয়াল আমিন সেন্টারের লিফটের ৬-এ।

বুফে লাউঞ্জ ধানমন্ডি

স্বল্প খরচে দেশীয় খাবারের পাশাপাশি বিদেশি খাবারের স্বাদ দিবে এই রেস্টুরেন্ট। দুপুর ও রাতের দুই বুফেতেই তাদের প্যাকেজ ৬৯৯ টাকা, যেখানে আছে বৈচিত্র্যপূর্ণ ৮৫+ আইটেম। ৩ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য এটি একদম ফ্রি। আর ৩-এর পর থেকে ৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য অর্ধেক দাম রাখা হয়।

৭৪৬ সাত মসজিদ রোড (পুরনো ৯/এ)-এর রূপায়ন জেডআর প্লাজার ৭ম তলার এই রেস্টুরেন্টে ৩ শতাধিক অতিথি বসতে পারেন। সিট রিজার্ভ, মেনু বা অন্যান্য তথ্য জানতে তাদের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে পারেন।

এখানে দুপুরের খাবারের সময় দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। আর রাতের বুফে শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টা থেকে, যার শেষ সময় রাত ১০টা।

রেড ক্লিফ

খুব বেশি পরিচিত নাম না হলেও সঠিক মূল্যে মান সম্পন্ন খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা যেতে পারে রেড ক্লিফকে। ৭৫+ আইটেম দিয়ে সাজানো তাদের দুপুরে বুফের জন্য খরচ করতে হবে ৬৫০ টাকা। আর রাতের বেলা ৮৫+ আইটেমের জন্য গুনতে হবে ৭৫০ টাকা।

বুফে লাউঞ্জের মত এরাও ৩ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য ফ্রিতেই খাবার সরবরাহ করছে। আর ৩-এর পর থেকে ৬ বছর বয়সীদের জন্য রাখা হচ্ছে অর্ধেক দাম।

এদের আসন ধারণ ক্ষমতা ১৫০ জন, তাই আগে থেকে যোগাযোগ করে যাওয়াটাই উত্তম। এর জন্য তাদের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে নক করা যেতে পারে।

এই রেস্টুরেন্টে যেতে হলে যেতে হবে ৯/এ সাতমসজিদ রোড ধরে গাওসিয়া টুইন পিকের ৪২ এবং ৪৩ নাম্বার বাড়ির লেভেল ৯-এ।

ক্যাফে রিও

মাঝারি বাজেটের মধ্যে দেশ সেরা বুফে রেস্তোরাঁ হচ্ছে ক্যাফে রিও। তাদের বিশেষত্ব হলো সাড়ে ৪ শতাধিক আসন বিশিষ্ট রেস্টুরেন্ট এবং রবি থেকে বৃহস্পতিবারের বুফেতে হাসের ভুনা গোশত।

সাধারণত তাদের বুফে মূল্য জনপ্রতি ৮৯৯ টাকা, যার ভেতর শুক্রবার ও শনিবার ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাকি দিনগুলোর ৭৯৯ টাকার প্যাকেজের শর্ত হচ্ছে, মধ্যাহ্ন বা নৈশ যেকোনো ভোজের জন্য আগত অতিথি গ্রুপে ন্যূনতম ৪ জন সদস্য সংখ্যা থাকতে হবে।

এখানে আরও একটি সুবিধা হচ্ছে- পার্টির জন্য আলাদা করে কোনো খরচ বহন করতে হবে না, শুধু খাবারের দাম দিলেই হবে। অধিকাংশ রেস্টুরেন্টগুলোর মত এখানেও ৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের জন্য অর্ধেক মূল্যের ব্যবস্থা আছে।

দুপুর ও রাতের বুফের সময় অন্যান্য রেস্টুরেন্টের মতই যথাক্রমে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা। আগে থেকে বুকিংয়ের জন্য ০১৩০৫২৫৩৯৪৯ নম্বরে কল করতে হবে।

মেনুর আইটেমগুলো দেখার জন্য ক্যাফে রিওর ফেসবুক পেজটি ঘুরে আসতে পারেন। ক্যাফে রিওর অবস্থান ১০/এ সাত মসজিদ রোডের ৫৪ নম্বর বাড়ি অর্থাৎ সেই বুফে স্টোরিসের ভবন ইম্পেরিয়াল আমিন সেন্টারের লেভেল ১১তে।

কোলাজ/ক্যাফে রিও

ধানমন্ডিতে জনপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি বুফে রেস্টুরেন্ট

দ্যা ফরেস্ট লাউঞ্জ

৭০+ আইটেমের জন্য ১,০২৫ টাকার দুপুরের বুফে, আর ৮০+ আইটেমের ১,২১৩ টাকায় রাতের বুফে অতিরিক্ত মনে হতে পারে। কিন্তু তাদের অভিনব সবুজ প্রাকৃতিক সাজে সজ্জিত ইন্টেরিয়র নিমেষেই দূর করে দিতে পারে সেই দ্বিধা। ১০/এ সাতমসজিদ রোডের ইম্পেরিয়াল আমিন আহমেদ সেন্টারের পুরো ছাদটাকে পরিণত করা হয়েছে মনোরম পরিবেশ ঘেরা রেস্টুরেন্টে।

শুক্রবারে তাদের বুফের বিশেষ অফার মাটন কাচ্চি। প্রতি বুধবারে চলে র‍্যাফেল বুফে, যেদিন দুপুর বা রাতে যেকোনো ভোজে অংশ নিয়ে জিতে নেওয়া যেতে পারে সম্পূর্ণ ফ্রি একটি বুফে।

তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য এবং ফরেস্ট লাউঞ্জের সর্বশেষ খবর জানতে চোখ রাখুন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

গার্লিক অ্যান্ড জিঞ্জার

এটি ইম্পেরিয়াল আমিন আহমেদ সেন্টারের আরও একটি বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট। বুফে স্টোরিস থেকে এক ফ্লোর উপরে তথা লেভেল ৭-এ উঠলেই পাওয়া যাবে গার্লিক এ্যান্ড জিঞ্জার। জায়গা কিছুটা সংকীর্ণ হলেও এদের দেশি-বিদেশি খাবারে পাওয়া যায় পূর্ণ আভিজাত্যের ছোঁয়া।

তাদের ১,২৯৯ টাকার বুফেতে একটা আলাদা বিশেষত্ব দিয়েছে নিহারি। ৩ থেকে ৬ বছরের বাচ্চাদের জন্য এই মূল্য কমিয়ে ৭২৫ টাকা রাখা হয়।

এদের দুপুরের সময়টা একটু এগিয়ে আনা হয়েছে সাড়ে ১২টায়। তবে শেষ হয় অন্যান্যগুলোর মতই বিকাল ৪টায়।

তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারগুলো থেকে নিজের প্রিয় খাবারগুলো বেছে নিতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি দেখে নিতে পারেন। সশরীরে যাওয়ার আগে এই অনলাইন পেজেই তাদের আভিজাত্যের সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রয়েছে ফোন এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার।

দ্যা প্যান প্যাসিফিক লাউঞ্জ

রেড ক্লিফের ঠিক এক ফ্লোর নিচে অর্থাৎ গাউসিয়া টুইন পিকের লেভেল ৮-এ অবস্থিত দ্যা প্যান প্যাসিফিক লাউঞ্জ। যেকোনো পার্টির আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য দারুণ এক পছন্দ হতে পারে ৪০০ আসন ক্ষমতার এই রেস্টুরেন্ট।

দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টার বুফে প্যাকেজ মূল্য ১,৩৯৯ টাকা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরিবেশন করা বুফের দাম এখন ১,৫৯৯ টাকা। নৈশভোজ চলে রাত সাড়ে ১০টা অব্দি।

৪ বছরের নিচের বাচ্চাদের জন্য ফ্রিতে পরিবেশন করা হয়। তবে অর্ধেক দাম রাখা হয় ৪ থেকে ৭ বছর বয়সীদের জন্য।

সরাসরি কল করে অগ্রিম বুকিং দেওয়া যাবে। তবে এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে, তারা কোনো ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অগ্রিম বুকিং নেয় না। এছাড়া মেনুসহ রেস্টুরেন্টের যাবতীয় অফারের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয় তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।

শেষাংশ

ভোজন রসিকদের অনেকেরই অভিরুচি থাকতে পারে একসঙ্গে হরেক রকমের খাবারের বিপুল সম্ভার একসঙ্গে দেখার। ধানমন্ডির এই বুফে রেস্টুরেন্টগুলো সেই সাধ মেটাতে সক্ষম। স্বল্প খরচে গোগ্রাসে গেলার পুরো আনন্দটা পেতে অনায়াসেই নির্বাচন করা যেতে পারে টেস্ট ব্লাস্ট ও জেনয়িাল বুফে।

অবস্থান সংকুলানের দিকে থেকে ক্যাফে রিওকে এগিয়ে রাখা যায়। খাবারের সঙ্গে যদি খাবারের জায়গাটিরও শৈল্পিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে নির্দ্বিধায় যাওয়া যেতে পারে দ্যা ফরেস্ট লাউঞ্জে। সর্বোপরি, যারা তেমন একটা খেতে পছন্দ করেন না তাদের জন্যও এই রেস্টুরেন্টগুলো প্রতীয়মান হবে এক ভিন্ন জগতের প্রবেশদ্বার হিসেবে।

About

Popular Links