Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছোটবেলায় অভিমানে ছেড়েছিলেন ঘর, এখন বাঁশিই তার সব

  • ছোটবেলায় ঘরছাড়া আলমগীর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছেন
  • নিজের বলতে কিছুই নেই তার
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৪ পিএম

অভিমানে শিশু বয়সে ছেড়েছিলেন ঘর। আর ফেরা হয়নি। যাযাবরের মতো পথে পথে ঘুরে বয়স ছুঁয়েছে ৩৮ বছর। বাঁশি বাজিয়ে ও বিক্রি করেই চলে জীবন।

এমনই এক ঘরছাড়া বাঁশিওয়ালার দেখা মেলে কুষ্টিয়ায়। কথা হয় তার সঙ্গে।

সৈয়দ আলমগীর কবির নামে এই বাঁশিওয়ালার ঠিকানা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জললি গ্রামে। তবে সেখানে থাকেন না তিনি। তার আবাস পথে পথেই।

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় তার। এজন্য বড় ভাই কিছুটা গালমন্দ করেছিলেন। এতে ভীষণ অভিমান হয় তার। ত্যাগ করেন বাড়ি। এরপর কখনও দোকান শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কখনও অন্যান্য কাজকর্ম করে কেটেছে জীবন। গত ১২ বছর ধরে তিনি ঘুরে ঘুরে বাঁশি বাজান ও বিক্রি করেন। এভাবেই কাটছে আলমগীরের জীবন।

সম্প্রতি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কথা হয় এই বাঁশি বিক্রেতার সঙ্গে।

সৈয়দ আলমগীর কবির বলেন, “চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। পাশের এলাকায় একটি এলাকায় চায়ের দোকানে কাজ নিই। সেখানে প্রায় তিন বছর কাজ করেছি। দোকানের মালিক ঠিকমতো বেতন দিতেন না। সে কারণে চলে যাই যশোরে। এরপর স্টেশন, হাসপাতাল রাস্তাঘাটে খেয়ে-না খেয়ে থেকেছি।”

তিনি বলেন, “এখন আমার নিজের বলতে আর কিছুই নেই।”

পরনের লুঙ্গি দেখিয়ে তিনি বলেন, “যেই লুঙ্গিটা পরে আছি এটিও অন্যজনের থেকে এনেছি। খাবারের অভাব সহ্য করা যায়, কিন্তু পোশাকের অভাব সহ্য করা কঠিন।”

“পথে-ঘাটে ঘুরেফিরে বাঁশি বিক্রি করে সারাদিনে যা আয় হয়, এ দিয়েই কোনোমতে খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছি।”

বাড়ির কথা মনে পড়ে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখনও বাড়িতে যাওয়া হয় না তেমন। কালেভদ্রে গেলেও বাড়ির সামনে রাস্তা থেকেই মায়ের সাথে দেখা করে ফিরে আসি।”

   

About

Popular Links

x