Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গাইলের যে মেলায় ডুব দিলেই ‘পাপমোচন’

পাপমোচনের আশায় ভোরে মানত করে স্নান সেরে নেন পূণ্যার্থীরা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:২৩ পিএম

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈয়দামপুর গ্রাম। গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “ডুবের মেলা”। এ মেলার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত এ মেলার সময় বংশাইয়ে পূণ্যস্নান করলে পাপমোচন হয় বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সারাদিন তাই সৈয়দামপুর গ্রামের বংশাই নদীর তীরে ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তরা পূজা ও স্নানে অংশ নেন। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে উৎসব। 

পূণ্যার্থীরা জানান, পাপমোচনের আশায় ভোরে মানত করে স্নান সেরে নেন তারা। পূণ্যস্নান করলে বিগত বছরের পাপ মোচনের পাশাপাশি মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। সঙ্গে মেলে পূণ্য।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ডুবমেলায় অংশ নেন হাজারো ভক্ত (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪)/ঢাকা ট্রিবিউন

জনশ্রুতি রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত সন্ন্যাসী (মাধব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে পূজা-অর্চনা শুরু করেন। এই পূজা উপলক্ষে তখন থেকে গঙ্গাস্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তখন থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত। ডুবের মেলায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্নান উৎসব চলে। সব বয়সী নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন।

সুজন সরকার নামে এক পূণ্যার্থী বলেন, “আজকে আমরা মাঘী পূর্ণিমার মেলায় এসেছি। এটি আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পূণ্যস্থান। বছরের এই দিনটিতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্নান হয়। শত বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে। ডুবের মেলায় যারা আসে তারা মনের বাসনা নিয়ে গঙ্গাস্নান করতে আসেন। গঙ্গাস্নান করলে মনের বাসনা পূরণ হয়।”

দেবাশীষ দাস নামে আরেকজন বলেন, “আজ এই মাঘী পূর্ণিমার তিথিতে উত্তরে প্রবাহিত জলে স্নান করলে সারা বছরের পাপমোচন হয়।”

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ডুবমেলায় অংশ নিলে পূণ্য মেলে বলে বিশ্বাস ভক্তদের (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪)/ঢাকা ট্রিবিউন

মেলায় মিষ্টি বিক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, “অনেক লোকের সমাগম হয়। ৩০ বছর ধরে এই মেলায় আসি। ভালোই বিক্রি হয়। মেলার দিনে ৯-১০ মণ মিষ্টি বিক্রি করা যায়।”

পুরোহিত রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “পূর্বপুরুষরা এই স্নানের রীতি শুরু করে দিয়ে গেছেন। এই স্নানকে বলে মাঘীপূর্ণিমার গঙ্গাস্নান। ৩০-৪০ জন পুরোহিত এই স্নানে এসেছে। দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন এসেছেন গঙ্গাস্নানে অংশগ্রহণ করে। পূণ্যার্থীরা তাদের মনোবাসনা নিয়ে এখানে আসেন। তারা ডুব দিলে তাদের মনের বাসনা পূর্ণ হয়।”

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মাঘী পূর্ণিমায় ডুবের মেলায় অংশ নিয়ে থাকেন। মেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন।”

   

About

Popular Links

x