রাতে ঘুম কম হলে দিনের বেলা ঘুম পাওয়া বা ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি সব সময়ই এমন ঘুম পেতে থাকে, প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে, তাহলে বুঝতে হবে এটা স্বাভাবিক নয়। অনেকেই বলেন, বেলা গড়ালেই ঘুম পেতে শুরু করে, সারাক্ষণ হাইও ওঠে। কিন্তু কেন এমন হয় তা অনেকেরই অজানা।
সারাক্ষণ ঘুম পাওয়া, ঝিমুনি লাগার কারণ “হাইপারসমনিয়া” হতে পারে। এটি এমন এক শারীরিক অবস্থা, যেখানে ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও সবসময় ঘুম পেতে থাকে। পরিশ্রম না করেও খুব ক্লান্ত লাগে। দিনের বেলাতেই ঝিমুনি বেশি আসে, ঘন ঘন হাই ওঠতে। “হাইপারসমনিয়া” একেবারে সেরে যাবে এমন কোনো ওষুধ বা থেরাপি নেই। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস রপ্ত করে নিলে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
যেভাবে বুঝবেন আপনি হাইপারসমনিয়ায় আক্রান্ত
রাতে টানা ১০ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে উঠতে পারছেন না। আবার ঘুম ভাঙার পরেই প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগছে, রাগের মাত্রাও বাড়ছে। সারাদিন ঘন ঘন হাই ওঠছে, উদ্বেগ-অবসাদও বাড়তে থাকে। এছাড়াও মাথা ব্যথা, মাইগ্রেনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে। নিজস্ব চিন্তাভাবনাও গুলিয়ে যেতে থাকবে, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হবে।
এই সমস্যার কারণ ও সমাধান
‘‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন’’ (এনসিবিআই)-এর তথ্য বলছে, বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা থেকে হাইপারসমনিয়া হতে পারে। যেমন ‘‘স্লিপিং ডিজ়অর্ডার’’ বা অনিদ্রার সমস্যা থাকলে তা থেকে হাইপারসমনিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যারা “স্লিপ অ্যাপনিয়ায়” ভুগছেন বা দীর্ঘকালীন অবসাদের শিকার, “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” রয়েছে অথবা ক্যান্সারের মতো রোগ রয়েছে এবং তার জন্য ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের হতে পারে। তাছাড়া দিনরাত মোবাইল ফোন ব্যবহার, টিভি বা ল্যাপটপের পর্দায় চোখ রাখা, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও এমন সমস্যা হতে পারে।
এর থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় হলো খাওয়াদাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম। রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। সকালে ওঠে হাঁটাহাঁটি বা যেকোনো শারীরিক কসরত করা। সুষম খাবারই খাওয়া, অ্যালকোহলজাতীয় নেশা ত্যাগ করা। অতিরিক্ত ওজন বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও এমন হতে পারে। সে জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে বা ডায়েট ঠিক করতে হবে।



