Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার আসামের বাসিন্দারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাবেন

ভারতের আসাম রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম

ভারতের আসাম রাজ্য সরকার বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার আসামের আদিবাসী বাসিন্দাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্যের হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এ ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে আসামের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, “নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে, যেখানে আদিবাসী মানুষ, যারা জীবনের হুমকি অনুভব করছেন এবং সংবেদনশীল এলাকায় থাকেন, তারা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লাইসেন্সগুলো কয়েকটি স্তরে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, যাচাইকরণ, আইন মানা, লাইসেন্স হস্তান্তর না করার শর্ত এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট করার মতো বিষয়। জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্বারা অনিরাপদ বলে বিবেচিত এলাকার বাসিন্দারা এই লাইসেন্সের জন্য যোগ্য হবেন।”

এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে আসামের রাজ্য মন্ত্রিসভা সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী ভারতীয় নাগরিকদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার এই পদক্ষেপকে পুলিশ স্টেশন থেকে দূরে থাকা ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপত্তা জোরদার করার একটি উপায় বলে ব্যাখ্যা করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বারপেটা, ধিং, ধুবরি, জানিয়া, মরিগাঁও, নগাঁও, রুপাহি ও দক্ষিণ সালমারা-মানকাচরের মতো জেলাগুলোকে চিহ্নিত করেছেন। এই এলাকাগুলোতে বাংলাদেশে শিকড় থাকা মুসলিমদের সংখ্যা বেশি।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এই রাজ্যে মুসলিমরা প্রায় ৩৫% এবং হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, অসমীয়াভাষী জনগণ বাংলাদেশের দিক থেকে, এমনকি তাদের নিজেদের গ্রামেও হুমকির সম্মুখীন।

ভারতের অন্যান্য অংশে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের আইন বেশ কঠোর। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত সমালোচিত হচ্ছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ বলেছেন, “বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এমন একটি বিষয় উৎসাহিত করছে, যা জনগণের মৌলিক চাহিদার চেয়ে অস্ত্রের ওপর বেশি জোর দেয়।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপ রাজ্যে সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজি বাড়াতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সমর্থকদের অস্ত্র দেওয়ার জন্য এসব আগ্নেয়াস্ত্রর অপব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী শর্মার এই উদ্যোগ বিজেপি সরকারের একটি বৃহত্তর প্রচারণার অংশ। তার সরকার অসমীয়াভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে, যার মধ্যে অবৈধ বিদেশি বা সন্দেহজনক নাগরিক আখ্যা দিয়ে বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই অভিযান মূলত বাংলাভাষী মুসলিমদের লক্ষ করে পরিচালিত হয়, যাদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক এবং আসামে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।

২০১৯ সালে আসামই প্রথম রাজ্য হিসেবে একটি বিতর্কিত নাগরিকত্ব যাচাইপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে, যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাদ পড়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। গত বছর বাংলাদেশে সরকার পতনের পর থেকে আসামে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে সীমান্তবর্তী জেলার আদিবাসী মানুষেরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন।

   

About

Popular Links

x