Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মিছিল থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ ১০০ জন, পরে সবাই মুক্ত

সংখ্যালঘু ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১১ পিএম

ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গণতন্ত্র নস্যাৎ করার অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদ ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। একপর্যায়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবসহ প্রায় ১০০ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

সোমবার (১১ আগস্ট) দিল্লি পুলিশ আটকের দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দিয়েছে।

ইন্ডিয়া জোটের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ার আড়ালে ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর ভোটব্যাংক ছাঁটাই করার চেষ্টা চলছে, যা গণতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। এই অভিযোগের প্রতিবাদেই তারা সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন।

মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। তাদের হাতে ছিল “চুপি চুপি ভোটের কারচুপি?” লেখা পোস্টার এবং তারা “ভোট চুরি মানছি না, মানব না” স্লোগান দিচ্ছিলেন। মিছিল ইন্ডিয়া গেট হয়ে পরিবহন ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। এ সময় মহুয়া মৈত্র ও সুস্মিতা দেব ব্যারিকেডের ওপর উঠে স্লোগান দেন, আর অখিলেশ যাদব ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। এরপরই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ অনেকে আটক হন।

দিল্লি পুলিশ জানায়, পদযাত্রার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। মাত্র ৩০ জন সাংসদের নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার অনুমতি ছিল, কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করে বড় মিছিল বের করা হয়, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটকের পর রাহুল গান্ধী বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটা সংবিধান রক্ষার লড়াই। এক ব্যক্তি, এক ভোট—এটাই দাবি।”

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বলেন, “ওরা ভীতু, সরকার কাপুরুষ।”

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, “যতক্ষণ ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ থাকবে, ততক্ষণ নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে।”

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে একে “গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন।

সন্ধ্যার দিকে পুলিশ আটক হওয়া সব নেতাকে ছেড়ে দেয়। তবে এ ঘটনা দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শিরোনাম হয়েছে।

   

About

Popular Links

x