মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান যুদ্ধ বা সংঘাত শেষ হওয়ার পরে তিনি ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কিনা! এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, "বিষয়টি পুনর্বিবেচনার বাইরে চলে গেছে।"
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধে ন্যাটো সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সমর্থন দেয়নি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল করতেও কোনো সাহায্য করেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বক্তব্য দিয়েছিলেন, "প্রয়োজনের সময় ন্যাটো সদস্য বন্ধুর পরিচয় দেয়নি। আমরা কখনোই তাদের কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি কিন্তু এটি একটি একতরফা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ বহরের অবস্থার সমালোচনাও করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, ন্যাটোর তো নৌবাহিনীও নেই। তারা খুব পুরোনো হয়ে গেছে, এমনকি বিমানবাহী রণতরী থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের উপযুক্ত নয়।"
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর কাছে সহায়তা চাওয়ায় ন্যাটো জোটের 'আর্টিকেল ফাইভ' নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ধারা অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা। ইতিহাসে মাত্র একবার এই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল ৯/১১ হামলার পরে। আফগানিস্তানে পরবর্তী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য দেশের এক হাজারের বেশি সেনা নিহত হন, যার মধ্যে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ ছিলেন।
অর্থাৎ এই ধারা কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন কোনো ন্যাটো সদস্য আক্রান্ত হবে। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবিমান হামলায় যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত নয় আক্রমণকারী। এজন্য, ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৩ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথোরাইজেশন আইন অনুযায়ী, সিনেটের সম্মতি বা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করতে পারবেন না। এই আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বের হতে চাইলে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।



