ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের জ্বালানি দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে সমস্যায় পড়েছে অনেক দেশ। তার মধ্যে একটি হলো ভারত।
বিবিসি বলছে, ভারত তার পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৯০% আমদানি করে এবং এর একটা বড় অংশ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে যায়। একইসঙ্গে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ভোক্তাও।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৫০%-এরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য বিশেষত ইরাক, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছিল। এগুলো সবই হরমুজ প্রণালি হয়ে আসত।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হর্ষপন্থ বিবিসিকে বলেছেন, “ভারত তার তেলের চাহিদার প্রায় ৯০% শতাংশ আমদানি করে, যার মধ্যে ৫০% হরমুজ হয়ে আসে। এই মুহূর্তে যা কেনা হচ্ছে সেটা চড়া দামে। হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।"
ভারতে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০-৮০ ডলার থাকলেও, বর্তমান সংকটে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫৭-১১৬.২৬ ডলারে। আগে ভারতের মোট তেলের ৯০% এই পথ দিয়ে আসত। ভারত এখন ৭০% তেল বিকল্প পথে আমদানি করছে। সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রুশ তেল আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার কারণে ভারতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি প্রায় ৫০% হ্রাস পেয়েছে এবং শিল্প খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় ২০% কমানো হয়েছে।
হরমুজ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে সারের দাম ২০-৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



