Friday, June 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাদুরোর বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে ট্রাম্পকে ‘মুরগি’র চিঠি

ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হুগো কারভাহালের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

ভেনেজুয়েলার অপহৃত ও বর্তমানে মার্কিন কারাগারে বন্দি প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন এক সময়ের তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ভেনেজুয়েলার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান জেনারেল হুগো কারভাহাল বারিসো, যাকে গোয়েন্দা জগতে সবাই ‘এল পোল্লো’ বা ‘মুরগি’ নামে চেনে, এখন নিজের সাবেক বসের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে কারভাহাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিচার বিভাগে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

কারভাহালের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রাপ্ত ওই চিঠিতে সাবেক এই স্পাই মাস্টার মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে কারভাহাল জানিয়েছেন, তিনি তাঁর অতীত অপরাধের জন্য ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে চান। 

তাঁর দাবি, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা চালিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধী, মাদক এবং গুপ্তচর ঢোকানোর পরিকল্পনা করেছেন মাদুরো। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহল সরাসরি মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত।

হুগো চাভেজের আমলের প্রভাবশালী এই জেনারেল ২০২৫ সালে মাদক পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নেন। বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কারাগারে বিচারপ্রতীক্ষায় থাকা মাদুরোর মামলায় কারভাহাল একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী’ হতে পারেন।

মজার বিষয় হলো, গত সপ্তাহে কারভাহালের সাজা ঘোষণার শুনানি হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এটি হতে পারে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো গোপন ‘বোঝাপড়ার’ ইঙ্গিত। যদি তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন, তবে তাঁর নিজের সাজা অনেক কমে আসতে পারে।

জেনারেল কারভাহাল দীর্ঘ সময় ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরের খবর জানতেন। এক সময় চাভেজ ও মাদুরোর অত্যন্ত বিশ্বস্ত থাকলেও ২০১৯ সালে তিনি মাদুরোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর স্পেনে পালিয়ে যান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিচার শুরু হয়। যদিও ২০০৮ সাল থেকেই মাদক পাচার ও কলম্বিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী ফার্ক-কে সহায়তার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন তিনি।

কারভাহালের এই সহযোগিতার প্রস্তাব বা চিঠি নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ কিংবা হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মাদুরো ও ভেনেজুয়েলা সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি কারভাহাল আসলেই আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তবে সেটি হবে ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বিপর্যয়।

   

About

Popular Links

x