ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হামলার মাত্রা এর আগে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি একটি বিশাল হামলার কথা ভাবছি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের খুব কাছাকাছি আছি এবং আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”
তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী ফলাফল থাকবে এবং তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে নতুন কোনো নির্দেশ দেননি।
ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি যদি বলি, তবে ইসরায়েল মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে এই অভিযানে যোগ দেবে। তবে এই অভিযানের জন্য আমাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।”
ইসরায়েল এই হামলায় সরাসরি জড়ালে দেশটিকে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের মুখে পড়তে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন আসতে চান। বিবির (নেতানিয়াহু) সাথে সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ভালো। তিনি এখানে এলে অবশ্যই তার সাথে দেখা করবেন।
ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি, তেহরান আলোচনা করতে চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো অবস্থায় আসেনি।
তিনি বলেন, “ওরা এখনো যথেষ্ট যন্ত্রণার স্বাদ পায়নি।”
মধ্যস্থতাকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান এখন পর্যন্ত দেওয়া নতুন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
প্রসঙ্গত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলা ঠেকাতে গত ১২ দিন ধরে দেশটিতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি। এর মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-পন্থী হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজে হামলা শুরু করায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, হুথিরা পুনরায় লোহিত সাগরে হামলা চালালে এর জন্য ইরানকে দায়ী করা হবে।
হুথিদের ইরানের ছায়াশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “এজন্য ইরান ও হুথি - উভয়কেই বড় ধরনের সামরিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”



