আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌযান 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায়' অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এই অভিযান চালায় তারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্য আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সহায়তা মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, ড্রোন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকারী প্রযুক্তি ও সশস্ত্র নৌবাহিনী ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগরের মাঝখানে তাদের আটকানো হয়। নিজেদের 'ইসরায়েল' হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা নৌযানগুলো ঘিরে ফেলে।
ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলা হয়, ১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে দেশটির আর্মি রেডিও জানায়, গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে ইসরায়েল এবং গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ৫৮টি নৌযানের মধ্যে সাতটি দখলে নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডেনন সামাজিক মাধ্যমে বলেন, "ফ্লোটিলাকে ইসরায়েলের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে।"
অন্যদিকে, ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাব্বার এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক নৌযানের ওপর 'সরাসরি হামলা' বলে আখ্যা দেন। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, "ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং নৌযানগুলোকে অস্ত্রের মুখে ঘিরে ফেলা হয়েছে।"
ফ্লোটিলার একটি জাহাজে থাকা কর্মী তারিক রাউফ জানান, বড় ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোট নৌযান নামিয়ে বহরটিকে ঘিরে ফেলা হয়। ড্রোনগুলো তাদের চারপাশে ঘোরাফেরা করছে এবং আলো ঝলকাচ্ছে। আর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রেডিওর মাধ্যমে বার্তা পাঠাচ্ছে। বারবার বলা হচ্ছে, আমরা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছি এবং আমাদের থেমে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মীদের নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল ৫০টিরও বেশি নৌযান নিয়ে ইতালি থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হয় ফ্লোটিলা। আয়োজকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সহায়তা পৌঁছাতে এটিই সবচেয়ে বড় বহর।
গত বছরের অক্টোবরে একই ফ্লোটিলার প্রায় ৪০টি নৌযান আটক করে ইসরায়েল। তখন ৪৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। ইসরায়েলি হেফাজতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে জানা যায়।



