হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমে যাওয়ার পর সম্প্রতি এ অবস্থা দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সমুদ্রে জাহাজ চলাচল নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত এ নৌপথ দিয়ে মোট ৫৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।
এর আগের সপ্তাহে জাহাজ চলাচল করেছে মাত্র ১৯টি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রথম হামলার পর এটি ছিল সবচেয়ে কম সংখ্যায় জাহাজ চলাচল। ওই হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়।
ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬৩টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
গত সপ্তাহে চলাচল করা ট্যাংকারগুলো প্রায় অর্ধেক পণ্য বহন করছিল। এর মধ্যে ছিল তিনটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। সেগুলোর গন্তব্য ছিল চীন, ওমান ও জাপান।
ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আরও ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১৬টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করেছে।
কাতারের গ্যাস বহনকারী মাত্র একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকার ১২ মে পাকিস্তানের উদ্দেশে প্রণালি পার হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এলএনজি ট্যাংকার চলাচলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টিতে।
ইরান সোমবার জানায়, যারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে, তারা প্রণালি পারাপারে সমস্যার মুখে পড়বে।
এদিন তেহরান প্রণালি তদারকির জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে এ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের কথাও জানায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান ফি আদায় করছে বলে খবর রয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে চীন ও ভারত হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোর সবচেয়ে বেশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের গন্তব্য বা যাত্রার শুরুর স্থানের মধ্যে রয়েছে।
ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। বিপরীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে গন্তব্য এমন জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম।
শান্তিকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সম্পন্ন হয়। এছাড়া সারসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ইরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, এ নৌপথে জাহাজ চলাচল ‘যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় আর ফিরবে না।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার জানায়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও বেশি সংখ্যক জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছে।
এর একদিন আগে তারা জানিয়েছিল, ৩০টির বেশি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তবে চলাচল বাড়লেও গত সপ্তাহের সংখ্যা যুদ্ধকালীন গড় হিসাবের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে।



