Saturday, June 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বে প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিন তৈরি করলো এআই

এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরেও সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

বিশ্বজুড়ে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং সম্ভাব্য মহামারি রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক ‘সুপার ভ্যাকসিন’ তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।  

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ভ্যাকসিনের প্রধান উপাদান মানুষের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নকশা করা হয়েছে এবং মানুষের শরীরেও তা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  

বিজ্ঞানীদের তৈরি এই ভ্যাকসিনটি মূলত করোনা ভাইরাসের সব ধরনের ভ্যারিয়েন্ট এবং পশুর শরীর থেকে ছড়ানো সম্ভাব্য মহামারি সৃষ্টিকারী ভাইরাসের বিরুদ্ধে সমানভাবে কাজ করবে। এই সফলতার পর গবেষক দলটি এখন ফ্লু এবং ইবোলার মতো মরণঘাতী ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতেও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন।

কিছু ভাইরাস তাদের রূপ পরিবর্তন বা মিউটেশনে অত্যন্ত পারদর্শী হওয়ায় প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো দ্রুত কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলে। এ কারণেই করোনা ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা প্রতি বছর হালনাগাদ করতে হয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি এই সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সব সময় ভাইরাসের চেয়ে পিছিয়ে থাকি। এখন যা করার চেষ্টা করছি তা হলো সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা, যাতে নতুন কোনো মহামারি ছড়ানোর আগেই মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।”

এই লক্ষ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রথমে বিভিন্ন করোনা ভাইরাসের পরিচিত জেনেটিক কোড সংগ্রহ করেন। এরপর এই জেনেটিক কোডগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। এআই তখন এমন একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ নকশা করে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় যেন ভাইরাস রূপ পরিবর্তন করলেও বা পশু থেকে মানুষের শরীরে ছড়ালেও শরীর নিজেই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই প্রধান উপাদান যা দেখে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিকর ভাইরাসকে চিনতে পারে এবং তার ওপর আক্রমণ করতে শেখে। অধ্যাপক হীনি বলেন, “এআই-এর নকশা করা অ্যান্টিজেন মানুষের শরীরে পরীক্ষার ঘটনা এটিই প্রথম। এই প্র যুক্তি দিয়ে যা করতে পারছি, তা সত্যিই চমৎকার।”

তিনি আরও বলেন, “এটি এমন ভ্যাকসিন তৈরির বিষয় যা শুধু আজকের ভাইরাস থেকেই আমাদের রক্ষা করবে না, বরং পরবর্তী মহামারি বা রোগের কারণ হতে পারে এমন কিছু থেকেও আমাদের বাঁচাবে। মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন।”

নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য প্রথম দফায় ৩৯ জন মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এরপর প্রায় ২০০ জন মানুষের ওপর দ্বিতীয় দফায় আরেকটি পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা থেকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়তার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইনফেকশন’ - এ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব এখনো পরিমিত হলেও বিজ্ঞানীদের মধ্যে এটি ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক সল ফস্ট (ট্রায়ালগুলোর সাথে যুক্ত ছিলেন), এআই-এর তৈরি এই নকশার ক্যানসার বা অন্যান্য মহামারি প্রতিরোধে নিশ্চিতভাবেই সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি সত্যিই রোমাঞ্চকর। 

কেমব্রিজ দল ইতোমধ্যে প্রতি বছর হালনাগাদ করতে হয় না এমন সার্বজনীন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন এবং পাখিদের মধ্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু ভাইরাসের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করছেন। এছাড়া তারা ইবোলাসহ বিভিন্ন হেমোরেজিক ফিভার বা রক্তক্ষয়ী জ্বরের ভ্যাকসিন নিয়েও কাজ করছেন। বর্তমানে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ছড়ানো ইবোলার এমন একটি প্রজাতির কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে, যার কোনো ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চের বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক মারিয়ান নাইট এই ঐতিহাসিক অর্জন নিয়ে জানান, এআই-ডিজাইন করা এই ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ ট্রায়ালের অসাধারণ সাফল্য ব্যাপক এবং দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাস সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।  

   

About

Popular Links

x