ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে এখনও চলছে উদ্ধার তৎপরতা।
কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার ধসে পড়া ভবনের কংক্রিটের নিচ থেকে ভেসে আসছে আটকে পড়া মানুষদের সাহায্যের আকুতি।
বিবিসির প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.২। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে - সেটির মাত্রা ছিল ৭.৫। দুটি ভূমিকম্পেরই কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি, যার কারণে ধ্বংসযজ্ঞ তীব্র হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। ইউএসজিএস আশঙ্কা করছে, এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪২% এবং ১ লাখ পার হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩৩ %।
হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কিত মানুষ ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।
বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে আঘাত হানে ভূমিকম্প দুটি। ভেনেজুয়েলার জাতীয় ছুটির দিন হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই ঘরে ছিল।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল ছিল অগভীর। প্রথমটির কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০.৩ কিলোমিটার নিচে হলেও দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এর মধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ নিশ্চিত করেন, নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।
বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলকে সাহায্য করতে এবং দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী পরিবহন জাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মেক্সিকো, কাতার, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও এল সালভাদরের মতো দেশও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া ভেনেজুয়েলার জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে সামনে এসেছে।



