যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান।
রবিবার (২৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ দাবি করে।
তাদের দাবি, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা সফলভাবে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে।
একই সঙ্গে “যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব চরমভাবে দেওয়া হবে” বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে সদ্য কার্যকর “যুদ্ধবিরতি” লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন, তা যত ছোট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেই হোক না কেন, তার জবাব হবে কঠোরতম।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গত জুনের মাঝামাঝি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
ওই সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশ এবং তাদের মিত্ররা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু করবে না এবং শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকেও বিরত থাকবে।
তবে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও বিনা মূল্যে চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে সম্মত হয়েছিল।
আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে তারা নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার তারা সতর্ক করে বলেছিল, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না।



