পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর নিবন্ধন, অর্থায়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনার পর বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ২৫২টি মাদ্রাসাকে সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আরও ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলা ও কলকাতা জুড়ে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর ওপর গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা বোর্ডের সঠিক নিবন্ধন নেই, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ঘাটতি রয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত পাঠ্যক্রম লঙ্ঘন বা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, প্রধানত সেগুলোর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা পরিচালিত হলেও প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো ধরনের সরকারি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছিল। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সর্বাধিক ৪৫টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মালদহে। এছাড়া দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দেন।
তার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, এই পদক্ষেপ কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং অনিয়ম ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মাদ্রাসার ছদ্মবেশে যেকোনো ধরনের ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, অতীতে বেশ কিছু মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতা ও অপরাধমূলক কাজের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। কেবল নিয়ম মেনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ভোটব্যাংকের রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বন্ধ করতেই এই তদন্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, শোকজ করা ১০০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না মিললে সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়ায় একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



