উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তান ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলেও ভারতের বিরোধিতার কারণে দেশটির সদস্যপদ এখনো আটকে আছে। জোটটি সম্প্রসারিত হয়ে ব্রিকস প্লাসে রূপ নিলেও দিল্লির অনড় অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদ এখনো এর বাইরে রয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ২৯টি দেশ ব্রিকসের সদস্য হতে আগ্রহী। এসব দেশের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। দেশটি মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করার লক্ষ্যেই ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।
জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) থেকে ৫৮ কোটি ডলার সমপরিমাণ শেয়ার কিনেছে পাকিস্তান।
দক্ষিণ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্রিকসের গুরুত্ব বাড়তে থাকার সময়েই জোটটির সদস্যপদের জন্য আবেদন করে পাকিস্তান।
ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি) অনুযায়ী সম্প্রসারিত ব্রিকস এখন বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
ব্রিকসে যোগদানের জন্য পাকিস্তান জোটের বিভিন্ন সদস্যের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসলামাবাদ।
রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সদস্যপদ পেতে পাকিস্তান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার কাছেও সমর্থন চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ এই জোটে যোগ দিতে চায় পাকিস্তান। তার দাবি ছিল, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র আরও আশা প্রকাশ করেছিলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তার প্রতি ব্রিকসের অঙ্গীকার অনুযায়ী জোটটি পাকিস্তানের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকলেও ব্রিকসে পাকিস্তানের যোগদান এখনো সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে ভারতের বিরোধিতাকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিকসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনো দেশকে পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে একটি সদস্য দেশের আপত্তিও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আটকে দিতে পারে।
এই নিয়মের কারণেই ভারতের বিরোধিতা পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে রপ্তানির পরিমাণ ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফলে একদিকে ব্রিকসের পরিধি ও বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ছে, অন্যদিকে পাকিস্তান জোটটিতে প্রবেশের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সর্বসম্মতির নিয়মের কারণে ভারতের অবস্থান পরিবর্তন না হলে ইসলামাবাদের সদস্যপদ পাওয়ার পথ এখনো অনিশ্চিত।



