যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক ভিসায় (কর্মী ভিসা) থাকা বিদেশিদের জন্য নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক ভিসায় বৈধভাবে অবস্থানকারী কোনো অভিবাসী চাকরি হারালে বা চাকরি ছেড়ে দিলে তাকে অবিলম্বে সে দেশ ত্যাগ করতে হবে।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী ভিসাধারী চাকরি হারালে বা পদত্যাগ করলে নতুন চাকরি খোঁজা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় পান। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) নতুন প্রস্তাবে এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পুরোপুরি বাতিল করার কথা বলেছে। এতে চাকরির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যে বৈধ মর্যাদা পাওয়া যায়, চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সেটিও শেষ হবে।
ডিএইচএসের ভাষ্য, নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে অভিবাসীর বৈধ অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া চাকরি বা কাজের মধ্যকার সম্পর্কটি আরও স্পষ্ট করা হবে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এর প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মীর ওপর। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসায় থাকা দক্ষ পেশাজীবীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্ল্যাটফর্ম ‘ফেডারেল রেজিস্টারে’ প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। সম্ভাব্য ব্যবসায়িক প্রভাবের কথা স্বীকার করলেও ডিএইচএস বলছে, প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই সমান যোগ্যতার মার্কিন কর্মীদের একই পদে নিয়োগ দিতে পারবে।
বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে ট্রাম্প ‘বাই আমেরিকান অ্যান্ড হায়ার আমেরিকান’ শীর্ষক একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগ ও মজুরি বাড়ানো।
অভিবাসী কর্মীদের জন্য ২০১৭ সালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা হয়। চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ দিত এই সময়সীমা। তবে ডিএইচএসের দাবি, গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হলে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমবে।
প্রস্তাবিত নিয়মটি শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে না। এর আওতায় এইচ-১বি১ ভিসাধারীরাও থাকবেন। সিঙ্গাপুর ও চিলির নাগরিকদের জন্য এই ভিসা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের জন্য থাকা ই-৩ ভিসাও এর আওতায় পড়বে। এছাড়া বিজ্ঞান, খেলাধুলা ও শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া ও-১ ভিসাধারীরাও নতুন নিয়মের আওতায় থাকবেন।
মেক্সিকো ও কানাডার যোগ্য পেশাজীবীদের জন্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় চালু হওয়া টিএন ভিসাও প্রস্তাবিত নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ই-১ ভিসা, বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-২ ভিসা এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য ব্যবহৃত স্বল্পমেয়াদি এল-১ ভিসাধারীরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়বেন।
তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনসাধারণের মতামতের জন্য এটি দুই মাস উন্মুক্ত থাকবে। এরপর মতামত পর্যালোচনা করে প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হতে পারে।



