তীব্র অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ সংকটে থাকা কিউবার ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানির সঙ্গে যুক্ত একটি কোম্পানি এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্যবস্তুদের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি ফিদেল এরনেস্তো কাস্ত্রো। পাশাপাশি কিউবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আবাপেত’-কেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে। জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ আমদানির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত।
নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ‘অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারস’-এর প্রধান ব্রেট এরিকসনের মতে, কিউবার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল করে দিয়ে দেশটির বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র করাই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য। তার দাবি, কিউবা সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
এরিকসন বলেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কিউবাকে বিকল্প ও সৃজনশীল উপায়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হবে। এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে কিউবায় নিয়মিত ব্ল্যাকআউট হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক এলাকায় পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
কিউবার ৪৯ বছর বয়সী নাগরিক ইয়াকুলিন বের্নাল জানান, গত রোববার থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তার ছোট আট নাতি-নাতনিকে নিয়ে। বিদ্যুৎ না থাকলে তারা পানিও পান না বলে জানান তিনি।
এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই দেশটির জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার কয়েক ঘণ্টা আগে এক সংবাদ সম্মেলনে কিউবার উপপ্রধানমন্ত্রী ও বৈদেশিক বিনিয়োগমন্ত্রী অস্কার পেরেজ-ওলিভা ফ্রাগা মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেন।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর কষ্ট চাপিয়ে দিয়ে মানবিক সংকট তৈরি করা একটি বড় অপরাধ। তিনি অবিলম্বে অর্থনৈতিক অবরোধ বন্ধের আহ্বান জানান।
এদিকে মেক্সিকোতে নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত ইউজেনিও মার্তিনেজ এনরিকেজ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর তীব্র সমালোচনা করেন।
তবে কিউবার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রুবিও। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিরা ‘কাস্ত্রো অর্থ ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের’ অংশ এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।
রুবিও আরও দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষ যেখানে খাদ্য ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে কাস্ত্রো পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠরা অবৈধভাবে সম্পদ বাড়াচ্ছে।
কিউবাকে ‘মুক্ত করতে’ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।



