যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি ‘সাইবারক্যাব’ চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। উবার ও ওয়েমোর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতেই নতুন এই গাড়ি নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেয় টেসলা। শুক্রবার থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য এ সেবা চালুর কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবার প্রদর্শন করা সোনালি রঙের সাইবারক্যাবে ব্রেক, অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল বা স্টিয়ারিং হুইল নেই। গাড়িটিতে দুজন যাত্রী বহন করা যাবে। অর্থাৎ, এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অস্টিন শহরের ওপর বিশাল আকারের সাইবারক্যাবের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে গাড়িটির পেছনে ধুলোর মেঘ দেখা যায়। টেসলার সদর দপ্তরও অস্টিনে অবস্থিত।
অনুষ্ঠানের আগেই অস্টিনের রাস্তায় সাইবারক্যাব চলতে দেখা যায়। টেসলার হালনাগাদ অ্যাপেও যাত্রীদের জন্য নতুন গাড়িটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া থেকে অস্টিনে বেড়াতে যাওয়া গ্রাহাম স্প্রিগ বলেন, “এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানার পরিবর্তে পরিবহনকে সেবা হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।”
অস্টিনে টেসলার আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, “শহরজুড়ে ব্যাপকভাবে সাইবারক্যাব দেখা যাবে। তবে বিনোদনকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য ছিল এবং সেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাই প্রথম চালকবিহীন সাইবারক্যাবে চড়ার সুযোগ পান। শুক্রবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা চালুর কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে আসা অনেকেই সাইবারক্যাবের সোনালি রঙের সঙ্গে মিল রেখে পোশাক পরেছিলেন।
টেসলা তাদের বিভিন্ন পোস্টে সাইবারক্যাবের নিরাপত্তা এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এর সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গাড়িটি সবার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবহন সহজলভ্য করার উদ্যোগের অংশ।
এর আগে, গত বছর অস্টিনে মডেল ওয়াই এসইউভি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল টেসলা। পরে টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার আরও কয়েকটি শহরে ধীরে ধীরে এ সেবা সম্প্রসারণ করা হয়।
তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনে চালকবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে এখনো অনেক সময় একজন মানব তত্ত্বাবধায়ককে প্রস্তুত থাকতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।
টেসলার নতুন এই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েমো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
টেক্সাস মোটরযান বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এফএসডি ডেটাবেসের হিসাবে, বুধবার পর্যন্ত টেক্সাসে টেসলার নিবন্ধিত রোবোট্যাক্সির সংখ্যা ছিল ৩১৪টি। এর মধ্যে ৪৫টি সাইবারক্যাব।
টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ইতাই মিখায়েলি মনে করেন, সাইবারক্যাবের সেবাও শুরুতে ধীরগতিতে এগোবে। প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের মতামত বিবেচনা করে পরে টেসলা এ সেবা আরও বিস্তৃত করতে পারে।
চালকবিহীন যানবাহনের জন্য টেক্সাসের আইন তুলনামূলকভাবে সহায়ক হওয়ায় অঙ্গরাজ্যটি এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ওয়েমো ও জুক্সের মতো প্রতিষ্ঠান সেখানে ইতোমধ্যে সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে মোটিনালের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্নেল টেকের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী অ্যান্থনি টাউনসেন্ড বলেন, টেসলা আসলে মাত্র শুরু করেছে। চালকবিহীন ট্যাক্সি খাতে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তার মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা করা হচ্ছে যে একসময় চালকবিহীন ট্যাক্সি মানবচালিত গাড়ির তুলনায় কম খরচে সেবা দিতে পারবে। তবে সেই পর্যায় কতটা কাছাকাছি, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একইভাবে এসব প্রতিষ্ঠান কবে লাভ-ক্ষতির সমতা বা সমপর্যায়ে পৌঁছাবে, সেটিও অনিশ্চিত।



