দীর্ঘদিন পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে আসা এক মাদক কারবারি শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন নিজের সামান্য এক প্রযুক্তিগত ভুলে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম “দ্য মেট্রো”র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই গ্রেপ্তারের বিস্তারিত।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস “ববি” নামের একটি মাদক সিন্ডিকেট চালাতেন, যা মূলত নর্থ কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করত। আগে আটক কিছু তরুণের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায় এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।
গত ৭ জুলাই লুইসের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ দেখে তিনি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়লেও দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করা হয়। গ্রেপ্তারের পর হতবাক হয়ে লুইস পুলিশকে প্রশ্ন করেন, তারা তাকে কীভাবে খুঁজে পেল।
উত্তর মিলেছে তদন্তেই নিজের ডিভাইসে ভিপিএন ব্যবহার করে যথেষ্ট সতর্ক থাকলেও একটি ডিভাইস অসাবধানতাবশত একটি পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এই ছোট্ট ভুলেই তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে ফেলে পুলিশ।
অভিযানে লুইসের বাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড মূল্যের কোকেন ও হেরোইন, নগদ প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড এবং ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যার একটি সরাসরি সিন্ডিকেটের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড গুলি, একটি বড় ছুরি ও একটি ফ্লিপ নাইফও উদ্ধার হয়।
ফোনের তথ্য বিশ্লেষণে প্রায় ২৫০ জন মাদকসেবীর কন্টাক্ট তালিকা পাওয়া যায়, যেখান থেকে প্রতিদিন শতাধিক কল আসত তার কাছে। তদন্তকারী গোয়েন্দা কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি জানান, নর্থ কিলবার্ন এলাকায় মাদক সরবরাহে তরুণ ও কিশোরদের ব্যবহার করতেন লুইস, যাদের অনেকে পরবর্তীতে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হ্যারো ক্রাউন কোর্ট জোয়েল লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।



