Tuesday, September 15, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে তিন স্টেশন, ট্রেনহীন লাইনে শুধুই অপেক্ষা

কোথাও জরাজীর্ণ ভবন দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও প্ল্যাটফর্ম ঢেকে গেছে আগাছায়

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

একসময় যশোরের রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গদখালী, ধোপাখোলা ও মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশন। যাত্রী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর এসব স্টেশন এখন স্মৃতির অংশ মাত্র। কোথাও জরাজীর্ণ ভবন দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও প্ল্যাটফর্ম ঢেকে গেছে আগাছায়।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কাছের মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে একটি মেইল ট্রেন থামলেও নেই কোনো আন্তঃনগর স্টপেজ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ট্রেন ধরতে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে যশোর জংশনে যেতে হয় এতে সময়-অর্থ দুটোই বাড়তি ব্যয় হয়, অনেক সময় ট্রেনও ফসকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে তাই দাবি উঠেছে তিন স্টেশন সংস্কার করে পুনরায় চালুর।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, “কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের স্বার্থে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা প্রয়োজন, এতে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।“

গদখালী: ফুলের রাজ্যের হারানো স্টেশন

ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ছিল যশোরের অন্যতম প্রাচীন জনপদ। ১৮৮২-৮৪ সালে বেঙ্গল সেন্ট্রাল রেলওয়ের দমদম-খুলনা রেলপথের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে বেনাপোল-যশোর লাইন, যাতে ১৯৩৮ সাল নাগাদ ছিল গদখালী স্টেশনও। একসময় শিয়ালদহ-বনগাঁ-পেট্রাপোল-গদখালী হয়ে খুলনাগামী “বরিশাল এক্সপ্রেস” চলাচল করত এ পথে, কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে “ফুলের রাজ্য” হিসেবে পরিচিত গদখালীতে সারাবছর ফুল উৎপাদিত হলেও স্টেশনটি হারিয়েছে পুরোনো কর্মচাঞ্চল্য। পরিত্যক্ত ভবনের দেয়ালে এখনো টিকে আছে পুরোনো “টিকিট লইবেন” লেখা। গদখালি ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, “স্টেশন চালু হলে ফুলচাষিরা পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে ফুল দ্রুত ঢাকায় পাঠাতে পারবেন এবং দর্শনার্থীরাও উপকৃত হবেন।“

মেহেরুল্লাহনগর: বিশ্ববিদ্যালয়ের দোরগোড়ায় থেমে না যাওয়া ট্রেন

যশোর সদরের ছাতিয়ানতলা গ্রামের এই স্টেশনে বর্তমানে শুধু একটি মেইল ট্রেন থামে, আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো স্টপেজ নেই। যবিপ্রবি প্রশাসন আন্তঃনগরসহ সব ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে গত ১২ আগস্ট, যা উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের নির্দেশে রেজিস্ট্রার কাজী জালাল উদ্দীন স্বাক্ষর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৮টি বিভাগ, আটটি অনুষদসহ বিপুল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান বলেন, “স্টেশনটি পাশে থাকা সত্ত্বেও আন্তঃনগর ট্রেন ধরতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে যশোর স্টেশনে যেতে হয়, রাতে যা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করে।“ উপাচার্য বলেন, “স্টপেজ চালু হলে সময়-অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণা কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।“

ধোপাখোলা: আগাছায় ঢাকা এক অতীত

১৮৮৪ সালে স্থাপিত যশোর সদরের এই স্টেশন একসময় কৃষক-ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে বন্ধ হয়ে যায় স্টেশনটি; বর্তমানে প্ল্যাটফর্ম ও ভবন ঢেকে গেছে আগাছায়। যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, স্টেশন পুনরায় চালুর বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হবে।

   

About

Popular Links

x