Friday, October 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিক্ষোভ আতঙ্কে দিল্লি, ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, বন্ধ মেট্রো এবং ট্রেন

কর্মসূচির বিষয়ে বাধ্যতামূলক আগাম তথ্য না দেওয়াকে অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠেয় এ কর্মসূচির আগে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হচ্ছে ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগে কর্মসূচির বিষয়ে বাধ্যতামূলক আগাম তথ্য না দেওয়াকে অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এর আগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন কর্মকর্তারা। জননিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর ও নয়াদিল্লি জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য চলাচল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে সম্ভাব্য ভিড় ও সংবেদনশীল এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে এসব স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।

বিধিনিষেধের আওতায় থাকা উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লি, প্যাটেল চক, জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট, লোক কল্যাণ মার্গ, উদ্যোগ ভবন, কাশ্মীরি গেট, হাউজ খাস, আইএনএ ও লাজপত নগর।

এতে শহরের বিভিন্ন অংশে যাতায়াত ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন ও নিয়মিত যাত্রীদের ব্যবহৃত রুটে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। যাত্রার আগে মেট্রোর সর্বশেষ পরিষেবা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা স্টেশন দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের ব্যবধানও বাড়তে পারে।

বিক্ষোভের আগে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

ট্রেনগুলো যাত্রার প্রারম্ভিক স্টেশন থেকেই বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। যাত্রীদের স্টেশনে যাওয়ার আগে ট্রেনের চলাচল ও সময়সূচি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২১ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে দিল্লি পুলিশকে অতিরিক্ত ১১০ কোম্পানি বাহিনী দেওয়া হয়েছে।

মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ৮৫ কোম্পানি, সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ১০ কোম্পানি, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সাত কোম্পানি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র‍্যাফ) সাত কোম্পানি এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) এক কোম্পানি রয়েছে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হবে। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিক্ষোভ চলাকালে সতর্ক থাকতে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানাসহ দিল্লির প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। কর্মসূচিতে কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

   

About

Popular Links

x