করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর দুই বছর পর প্রথমবারের মতো মাস্ক পরার বাধ্যবধকতা তুলে নিয়েছে জার্মানি। দেশটির কিছু রাজ্যে উচ্চ সংক্রমণ হার থাকলেও সেখানকার মানুষেরা এখন মাস্ক ছাড়াই এখন দোকানে যেতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জার্মানিতে শুধু বিমান এবং দূরপাল্লার ট্রেনে চলাচলের ক্ষেত্রেই মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা থাকছে। তবে রাজ্য সরকার চাইলে হাসপাতাল, সেবাকেন্দ্র এবং গণপরিবহণে মাস্ক পরার নিয়ম চালু রাখতে পারবে।
শুক্রবারই বার্লিনে ফেডারেল সরকারে পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বেশিরভাগ রাজ্য রবিবার (৩ এপ্রিল) থেকেই তা কার্যকর করেছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৬ টি রাজ্যের মধ্যে কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিল বলেও জানা গেছে।
সিদ্ধান্তে সহমত প্রকাশ করা রাজ্যগুলোতে দোকানে মাস্ক পরতে হবে কি-না সেটি দোকান মালিকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক দোকান মালিক জানিয়েছেন, ক্রেতাদের বেশিরভাগই মাস্ক পরেই কেনাকাটা করেছেন।
তবে বড় সুপারশপগুলোর অনেকেই এরইমধ্যে ক্রেতাদের জন্য মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে। রেভে, আলডি, লিডল, এডেকা, সুইডিশ আসবাবের দোকান ইকেয়া, বইয়ের দোকান থালিয়া এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড এইচ এন্ড এম ও প্রাইমার্ক জানিয়েছে তাদের দোকানে যেতে আর মাস্ক পরিধানের প্রয়োজন নেই।
তবে কিছু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কর্মচারীরা নিয়ম শিথিলের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে একটি ট্রেড ইউনিয়নও।
কোয়ারান্টিন বিধিতেও পরিবর্তন আসছে
শুধু মাস্ক নয় কোয়ারান্টিনের নিয়মও শিথিল করেছে জার্মানির সরকার।এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্ল লাউটারবাখ বলেন, “করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আগামী মাস থেকে আর কোয়ারান্টিনে থাকার জন্য বাধ্য করা হবে না।” তবে কেউ আক্রান্ত হলে তিনি যাতে স্বেচ্ছায় আলাদা থাকেন সেই পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
লাউটারবাখ বলেন, “মে মাসের ১ তারিখ থেকে কোয়ারান্টিনের নিয়ম বদলে যাচ্ছে, তবুও আমি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা থাকার পরামর্শ দিবো।”
তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা এই আইনের বাইরে থাকবেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে পাঁচ দিন কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে।



