সুন্দরভাবে চুল ছাঁটাকে অনেকেই শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। নিজেকে পরিপাটি রাখতে এবং আকর্ষণীয় রুপে উপস্থাপনের জন্য একজন পুরুষের ক্ষেত্রে সুন্দর চুলের ছাঁটের বিকল্প নেই। তাই সুন্দর চুলের ছাঁটের জন্য মানুষ যেমন সেলুনের বাইরে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে থাকে, তেমনি নরসুন্দরেরও বেশ ধৈর্য্য প্রয়োজন।
নিখুঁত এবং চুলের ছাঁট দিতে গ্রাহকের পেছনে একজন নরসুন্দরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হয়। তবে গ্রিসের এক নরসুন্দর হেঁটেছেন পুরো উল্টো পথে। এক মিনিটেরও কম সময়ে গ্রাহকের চুল ছাঁটা শেষ করে রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই না, গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও।
হৈ চৈ ফেলে দেওয়া এই নরসুন্দরের নাম কনস্টান্টিনোস কৌটুপিস। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এই নরসুন্দর মাত্র ৪৭ সেকেন্ডে গ্রাহকের চুল ছেঁটে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে কারও মাথার চুল ছাঁটার বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছেন। আর এই রেকর্ড গড়তে কনস্টান্টিনোস কৌটুপিসের প্রয়োজন হয়েছে শুধুমাত্র একটি ট্রিমার।
এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
গত ৪ সেপ্টেম্বর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তিন মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথম ৩০ সেকেন্ডে খুব সতর্কতার সঙ্গে কনস্টান্টিনোস কৌটুপিস গ্রাহকের চুল ছাঁটছেন। ৪৭.১৭ সেকেন্ডে যথাযথভাবে গ্রাহকের চুল ছাঁটা শেষ করে দুই হাত উচিয়ে উল্লাস করেন তিনি।
Need a quick trim? How about a 45 second trim? ?♂️ pic.twitter.com/DqeokLazg2
— Guinness World Records (@GWR) September 4, 2022
ওই গ্রাহকের চুল ছাঁটা শেষ হওয়ার পর গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারকরা তার চুলের দৈর্ঘ্য মেপে দেখেন। মাপার পর দেখা যায়, কনস্টান্টিনোস কৌটুপিস অত্যন্ত সুনিপুণ এবং দক্ষভাবেই ওই গ্রাহকের চুলের ছাঁট দিয়েছেন। এরপরই কৌটুপিসকে সবচেয়ে কম সময়ে কারও মাথার চুল ছাঁটার রেকর্ডের অধিকারী বলে স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।
কনস্টান্টিনোস কৌটুপিসের রেকর্ড গড়া এই চুল ছাঁটার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। অল্প সময়ে দক্ষ হাতে এত নিখুঁতভাবে চুল ছাঁটায় বিস্ময় প্রকাশ করে অনেকেই কনস্টান্টিনোস কৌটুপিসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এক ব্যবহারকারী বলেন, “চমৎকার কাজ।” গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারকদের চুল মাপার প্রসঙ্গে আরেক ব্যবহারকারী বলেন, “রুলার দিয়ে তারা চুলের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেছেন, গিনেস কর্তৃপক্ষ দারুণ।”
কনস্টান্টিনোস কৌটুপিসের দ্রুততম সময়ে চুল ছাঁটার খুঁত ধরে অপর এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, চুলের ছাঁটটি খুবই এলোমেলো থাকায় তেমন ভালো হয়নি। তিনি বলেন, “আমি দুঃখিত। আমি ভেবেছিলাম, শেষে গিয়ে চুলগুলো ভালো দেখাবে। কিন্তু যে লোকটির চুল ছাঁটা হয়েছে, তাকেও চুলের ছাঁট নিয়ে আনন্দিত মনে হচ্ছে না।”



