Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতে সমকামী বিয়ে বৈধতা পাওয়ার সম্ভাবনা

সমকামী বিবাহের স্বীকৃতি দাবি করে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান দেশটির বিভিন্ন আদালতে

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৩ পিএম

দত্তক নেওয়া এবং উত্তরাধিকারসহ বিবাহিত দম্পতিদের মতো সমঅধিকার দাবি করেছেন ভারতের এলজিবিটিকিউ যুগলরা। তবে সমকামী বিবাহের বেলায় দেশটিতে রয়েছে বড় ধরনের বাধা।

২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঔপনিবেশিক যুগের একটি আইন বাতিল করার পর সমকামিতা বৈধ হয়। সম্প্রতি আদালত সমকামী বিবাহের স্বীকৃতি চেয়ে আবেদনের জবাব দিতে সরকারকে এক মাস সময় বেধে দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় নেতৃত্বে দেশটির শীর্ষ আদালত জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুটি পিটিশনের শুনানি করেছেন। দুই এলজিবিটিকিউ যুগল পিটিশন দুটি দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ, রাজ্য তাদের বিবাহিত হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না, যা তাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

প্রথম পিটিশনকারী যুগল প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। গত বছর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা পরস্পরের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। শুধু তাই না, তাদের বাবা-মা, পরিবারবর্গ ও বন্ধুরাও তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে।

দ্বিতীয় পিটিশন করা দম্পতি ১৭ বছরের সম্পর্কে আবদ্ধ, তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে বৈবাহিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা তাদের সন্তানের সাথে বৈধ অভিভাকত্ব পাচ্ছেন না।

সমকামী বিবাহের স্বীকৃতি দাবি করে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান দেশটির বিভিন্ন আদালতে। ভারতের ১৯৫৪ স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে সমকামী বিবাহের স্বীকৃতি চাওয়া নিয়ে করা অন্য আবেদনগুলো দিল্লি এবং কেরালার উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

“বিয়ে থেকে বিরত রাখা সমতার অধিকারের লঙ্ঘন। আমরা আদালতকে বলেছি, বিবাহের বৈধতা না থাকার কারণে আমাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, দত্তক গ্রহণ এবং আর্থিক বিষয়গুলোতে প্রভাব পড়ছে। এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্যদের অন্যান্য নাগরিকদের মতো একই মানবিক, মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে,” নাম প্রকাশ না করে বলেন এক সমকামী ব্যক্তি।

বৈধতার পথ কী?

ভারতের আদালত সমকামিতা আর কোনো অপরাধ না ঘোষণা করলেও সমকামীদের বিবাহের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে ভারতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের একত্রে বসবাসের বৈধতা দেয়। এলজিবিটিকিউ দম্পতিরা এই আইনে তাদেরও বৈধ করার দাবি করছে।

আইনের বাধা না থাকলেও এলজিবিটিকিউ দম্পতিরা সারাজীবন প্রতিশ্রুতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুসরণে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এসব বিয়েতে।

বিবাহের স্বীকৃতি না থাকায় সমকামী এবং সমকামী দম্পতিদের ভারতীয় সারোগেট মায়ের সাহায্যে সন্তান গ্রহণের অনুমতিও নাই। একজন সমকামী ব্যক্তি শুধুমাত্র একক অভিভাবক হিসেবে দত্তক নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় দত্তক পর্যালোচনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন।

“কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই আমরা অধিকার নিয়ে অন্য সবার মতো হওয়ার অপেক্ষায় আছি,” এলজিবিটিকিউ অধিকার কর্মী মোহনীশ মালহোত্রা দাবি করেন।

সমকামী বিয়ের পথে বাধা

এ পর্যন্ত বিশ্বে ৩৩ দেশের সমকামী বিবাহ ও মিলনের স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ভারতে সমকামীদের সম্পর্কে সে দেশের মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হলেও সমকামী বিয়ের ক্ষেত্রে তাদের ঘোরতর আপত্তি রয়েছে।

উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার এক বিবৃতিতে সমকামী বিয়েকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছে। তারা বলছে, ভারতীয় আইনে সমকামী বিয়েকে অবৈধ বলে গণ্য করা উচিত।

“দুজন মানুষ একসাথে থাকতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু সমকামী বিয়ের ইস্যুতে বিচারক হতে পারি না। এ নিয়ে বড় ধরনের সামাজিক বিতর্ক হওয়া উচিত এবং সংসদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে,” নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন।

About

Popular Links