Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফিলিস্তিনের পক্ষ নেওয়ায় বিশ্বকাপে রোনালদো রাজনীতির শিকার, অভিযোগ এরদোয়ানের

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গেও তুলনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১২ এএম

ফুটবলের ৩২ দলের মহারণ শেষ হয়েছে আরও এক সপ্তাহ আগে। তবে, বিশ্বকাপ ফুটবলের এবারের আসরের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। কাতার বিশ্বকাপ ছিল ফুটবলে গত কয়েক বছর ধরে রাজত্ব করা বেশ কয়েকজন তারকার শেষ আসর। তাদরে মধ্যে অন্যতম পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

তবে, কাতার বিশ্বকাপটা হয়তো ভুলেই যেতে চাইবেন সি আর সেভেন। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে টানা পাঁচ আসরে গোল করার বিশ্বরেকর্ড গড়লেও শেষদিকে সিআর সেভেনের সময়টা কেটেছে বেঞ্চে বসেই। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পর্তুগালের বিদায়ে তো ৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপস্বপ্ন শেষ হয় কান্নাভেজা চোখে।

কোয়ার্টার ফাইনালে মরোক্কোর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালকে। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) কাতারের আল থুমামাহ স্টেডিয়ামে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। তবে ম্যাচের ৫১ মিনিটে মাঠে নামেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল তখন এক গোলে পিছিয়ে। গোল শোধ করতে একের পর এক চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না সিআর সেভেনের। কিন্তু ভাগ্য হয়তো পক্ষে ছিল না। তাই মলিনতায় শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্য়ায়।

তবে ভক্তদের অনেকেরেই মনে হতে পারে রোনালদো শুরুর একাদশে থাকলে ম্যাচের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।

এর আগে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোকে ছাড়াই প্রথম একাদশ সাজান পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। সেই ম্যাচে বদলী হিসেবে রোনালদোকে মাঠে নামানো হয় ৭৪ মিনিটের সময়।

এসব ঘটনায় বিশ্বকাপে রোনালদোর সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে বলেই মনে করেন বিশ্বজুড়ে থাকা তার কোটি কোটি ভক্তরা। তবে, এবার সেই সমালোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

তার মতে, রোনালদোকে খেলতে না দেওয়ার পেছনে মাঠের পারফরমেন্স বা কর্মকাণ্ড নয়, বরং রাজনীতি জড়িত।

এরদোয়ানের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলি নির্যাতনের শিকার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে রোনালদোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে এমন ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

রবিবার এরদোয়ান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন অভিযোগ তুলেছেন বলে সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গেও তুলনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

এরদোয়ান বলেন, “ওরা রোনালদোকে কাজে লাগায়নি। দুর্ভাগ্যবশত, তারা তার ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ম্যাচের মাত্র ৩০ মিনিট বাকি থাকতে রোনালদোর মতো একজন ফুটবলারকে মাঠে পাঠানো হয়েছে। এটি তার মনস্তত্ত্বকে নষ্ট করেছে এবং তার তেজোদীপ্ততা কেড়ে নিয়েছে। রোনালদো এমন একজন ব্যক্তি, যিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।”

যদিও, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে রোনালদো কখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে অনলাইনে অনেক সময় এ সংক্রান্ত ভুয়া খবর ছড়িয়েছে। ২০১৯ সালে নিজের গোল্ডেন বুট পুরস্কার নিলামে তোলার পর ফিলিস্তিনিদের জন্য রোনালদোর দেড় মিলিয়ন ইউরো দান করার একটি ভুয়া খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। সে সময়  রোনালদোকে প্রতিনিধিত্বকারী একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

এরপর, এই তারকা ফুটবলারের স্প্যানিশ ভাষায় “টুগেদার উইদ দ্য ফিলিস্তিনি” লেখা একটি ইমেজও অনলাইনে ভুলভাবে ব্যাপক শেয়ার হয়েছিল। সেখানে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটি ছিল ২০১১ সালে স্পেনে ভূমিকম্পের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি রোনালদোর একটি অভিব্যক্তি।

এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে রোনালদোর কাঁধে ফিলিস্তিনি স্কার্ফ পরা একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে সেটি আসলে তাকে পরানো হয়েছিল ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে। ওই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি অ্যাসোসিয়েশন প্রধান জিব্রিল রাজউবের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। 

যদিও বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি মন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন রোনালদো। সাবেক ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সঙ্গেও তার ছবি রয়েছে। সেখানে তাকে ইসরায়েলি মন্ত্রীকে নিজের একটি ফুটবল শার্ট উপহার দিতে দেখা যায়।

তাই, এরদোয়ানের এমন অভিযোগ কতটা যুক্তসঙ্গত সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে।

   

About

Popular Links

x