জার্মানির সম্মানসূচক শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার পুরস্কারজয়ী ঔপন্যাসিক ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি। সাহিত্যকর্ম ও জীবনের প্রতি হুমকি সত্ত্বেও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য এ পুরষ্কার দেওয়া হয় তাকে।
সোমবার (১৯ জুন) সালমান রুশদির ৭৬তম জন্মদিনে তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে জার্মান বুক ট্রেড।
পুরষ্কারদাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, আগামী ২২ অক্টোবর ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন।
জার্মান বুক ট্রেড এক বিবৃতিতে জানায়, ১৯৮১ সালে মিডনাইটস চিলড্রেন উপন্যাস প্রকাশের মুহূর্ত থেকে সালমান অভিবাসন ও বিশ্বরাজনীতির ব্যাখ্যা দিয়ে সবাইকে বিস্মিত করে চলেছেন। তিনি উপন্যাস ও নন-ফিকশনে (কাল্পনিক নয়, বাস্তবভিত্তিক লেখা) দূরদর্শিতামূলক বর্ণনার মিশ্রণে সাহিত্যে উদ্ভাবন, হাস্যরস ও প্রজ্ঞায় মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। তার কাজ সমাজবিধ্বংসী নিপীড়ক গোষ্ঠীর বর্ণনা দেয়।
পুরস্কার কর্তৃপক্ষ সালমান রুশদিকে স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশকারীদের অবিচল রক্ষক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সালমান রুশদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২০২২ সালের আগস্টে এক সম্মেলনে ছুরিকাঘাত করেছিলেন এক ব্যক্তি। এতে তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি ও এক হাতের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও তিনি দমে যাননি। তিনি সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ধরে রেখেছেন। জার্মান বুক ট্রেড পুরস্কার কর্তৃপক্ষ তার এই প্রাণশক্তিকে তাদের বিবৃতিতে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছে।
এক বিবৃতিতে সালমান রুশদি মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার পাওয়ায় নিজকে সম্মানিত বোধ করছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি পুরস্কারসংশ্লিষ্ট বিচারকদের ধন্যবাদ জানান।
সম্প্রতি সম্প্রতি হেই লিটারারি ফেস্টিভ্যালের জুম উপস্থিতিতে রুশদি বলেন, “আমার ওপর আক্রমণ সম্পর্কে আমি একটি বই লেখার চেষ্টা করছি। সেখানে থাকবে সেদিন কী ঘটেছে, এর অর্থ কী ইত্যাদি। বইটি কেবল আক্রমণ সম্পর্কে নয়, বরং এর নানা দিক নিয়ে হবে।”
আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী এই লেখক আরও বলেছেন, “এটি কয়েকশ পৃষ্ঠার অপেক্ষাকৃত ছোট একটি বই হবে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সহজ বই হবে না। তবে এটি এমন কিছু, যার জন্য আমাকে অতীতে ফিরে যেতে হবে।”
রুশদি পাঠকদের আরও জানান, “তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।”
১৯৪৭ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন সালমান রুশদি। তিনি তার দ্বিতীয় উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন-এর জন্য ১৯৮১ সালে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ বুকার পুরস্কার পান।



