Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দিল্লি থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহার:  শিক্ষার্থী-বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে?

ট্রুডো বলেন, দিল্লি যা করছে তাতে দুই দেশের লাখ লাখ মানুষের কষ্ট বাড়ছে। ভারত কূটনীতির মূল বিষয়গুলোই মানছে না। এর প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও কানাডায় অবস্থান করা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ১২:২৮ পিএম

দিল্লি থেকে ৪১ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়ার পর আবার ভারত ও কানাডা একে অপরের কড়া সমালোচনা করছে।

কানাডার নাগরিক ও খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার (২০ অক্টোবর) ভারত থেকে ৪১ জন কূটনীতিকসহ ৮৩ জনকে ভারত থেকে প্রত্যাহার করে নেয় অটোয়া। কানাডা তখন জানায়, ভারতের অবস্থানের কারণে অটোয়া এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

তার আগে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি ভারতের দিকে আঙুল তোলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। সেই অভিযোগ অস্বীকার করে ভারত। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। সবশেষ ৪১ কূটনীতিককে ফেরায় কানাডা।

কূটনীতিককে ফেরানোর পর ট্রুডো বলেছেন, “দিল্লি যা করছে তাতে দুই দেশের লাখ লাখ মানুষের কষ্ট বাড়ছে। ভারত কূটনীতির মূল বিষয়গুলোই মানছে না। ভারত যে কানাডার কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো, তার প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন এবং কানাডায় অবস্থান করা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে।”

ট্রুডোর মন্তব্যের পর এ বিষয়ে কথা বলেছন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, “দুই দেশের কূটনীতিকদের সংখ্যার মধ্যে সমতা থাকা দরকার। তাই ভারত এই কাজ করেছে। ভারত ভিয়েনা কনভেনশনের মধ্যে থেকেই এই কাজ করেছে।”

কানাডিয়ানদের ভিসা স্থগিত করেছিল ভারত। এ বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “ভিসা আবার দেওয়া শুরু হবে, যদি সেখানে ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্রুডোর দেশ। ভারত ও কানাডার সম্পর্ক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কানাডার বেশ কিছু নীতি নিয়ে ভারতের অসুবিধা আছে।”

গত বছর কানাডা আদমশুমারির যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, তাতে দেখা গেছে অন্যান্য দেশ থেকে আসা মোট অভিবাসীর ১৮.৬% ভারতীয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে কানাডায় অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৪০% ভারতীয়।

শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালের পর কানাডায় ভারতীয় অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। এদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন কানাডার নাগরিক ও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেটিএফ প্রধান নিজ্জারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের পাঞ্জাবি অধ্যুষিত শিখদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের পার্কিংয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।

দীর্ঘদিন ধরে নিজ্জারকে খুঁজছিল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। তার মাথার দাম ১০ লাখ রুপি ঘোষণা করেছিল ভারত।

ভারতের পাঞ্জাবের অন্যতম নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী শিখ সম্প্রদায়। যারা ভারত থেকে আলাদা হয়ে কথিত স্বাধীন রাষ্ট্র “খালিস্তান” প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে; যা “খালিস্তানি” আন্দোলন নামে পরিচিত। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই দলটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

গত কয়েক বছর ধরে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল৷ নিজ্জার হত্যার ঘটনা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

About

Popular Links