Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আর ১৪ মিটার খুঁড়লেই উদ্ধার হবে ভারতে টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকরা

কর্মকর্তাদের ধারণা, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শ্রমিকদের উদ্ধার সম্ভব হবে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৩ পিএম

আর মাত্র ১২ মিটার খুঁড়লেই উদ্ধার করা যাবে ভারতের উত্তরাখণ্ডের টানেলে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিককে। শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) এ তথ্য জানান উত্তরাখণ্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

তাদের ধারণা, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শ্রমিকদের উদ্ধার সম্ভব হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকরা যে স্থানে আছেন, তার ঠিক কয়েক মিটার আগেই বন্ধ হয়ে যায় উদ্ধারকাজ।

কর্মকর্তারা জানান, যে ড্রিলিং মেশিন দিয়ে সুড়ঙ্গের মাটি কাটা হচ্ছিল তাতে সমস্যা দেখা দেয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয় ড্রিলিং কার্যক্রম। তবে সেটি আবার সচল করা হয়েছে।

তারা জানান, পাথরে গর্ত করার পাশাপাশি সেই গর্তে উদ্ধারকারীদের বের করে আনার জন্য ঢালাই করা পাইপ ঢোকানো হচ্ছে। আর সেই প্রক্রিয়ার কারণেই বেশি সময় লাগছে।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) উত্তরাখন্ডের পর্যটন বিভাগের বিশেষ আধিকারিক ভাস্কর খুলবে জানান, এখন পর্যন্ত ৬৭% ড্রিলিং শেষ করা গেছে।

উদ্ধারকারী দলের কাছে চাকা লাগানো স্ট্রেচার আছে। ওই স্ট্রেচারে করে শ্রমিকদের ৫৭ মিটার (১৮৭ ফুট) স্টিলের পাইপের মধ্য দিয়ে বাইরে আনা হবে।

ভাস্কর খুলবে বলেন, “টানেলের ভিতরে আমাদের আরও ১৪ মিটার ড্রিল করতে হবে।”

তিনি বলেন, “যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, আমরা আশা করি আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যার মধ্যে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারবো।”

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশপাশে ভিড় করছেন শ্রমিকদের স্বজন ও উৎসুকরা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সও।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের প্রধান অতুল কারওয়াল বলেন, “তাদের কাছে পৌঁছানোর পরপরই যত দ্রুত সম্ভব, তাদের বের করে আনা হবে।”

এছাড়া ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার সবই প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উত্তরাখণ্ডের সুড়ঙ্গের এই ধস আরও ব্যাপক কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। মূলত চারধাম যাত্রা প্রজেক্টের জন্যই ওই সুড়ঙ্গ কাটা হচ্ছিল। ফলে ৫০ মিনিটের রাস্তা পাঁচ মিনিটে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছিল প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, ৫০ মিনিট বাঁচানোর জন্য এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালানোর কী প্রয়োজন?

ঘটনাস্থলে গেছেন ইঞ্জিনিয়ার এবং পরিবেশবিদ বিভাংসু কাপারওয়ান। তিনি বলেন, “যে অঞ্চলে এই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলছে, সেখানে পাথর নরম। এমনিতেই এই অঞ্চল ধসপ্রবণ। তার মধ্যে এমন সুড়ঙ্গ তৈরি অত্যন্ত বিপদজ্জনক।”

বিভাংসুর বক্তব্য, “সুড়ঙ্গ তৈরি হওয়ার পরেও বিপদের আশঙ্কা আছে। আরও বেশি ধস নামার আশঙ্কা আছে।”

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ দীপায়ন দে বলেন, “উন্নয়নের নামে সরকার পরিবেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেভাবে হিমালয় কাটা হচ্ছে তা ভয়াবহ।”

দীপায়নের বক্তব্য, “পাহাড়ে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরেও কারও টনক নড়ছে না। এই মুহূর্তে এই ধরনের কাজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।” বস্তুত, দীপায়নের বক্তব্য, “যে ধরনের সয়েল টেস্ট করে এই ধরনের প্রজেক্ট হওয়া উচিত, অনেক ক্ষেত্রেই তা হচ্ছে না। হলে এমন বিপর্যয় ঘটতো না। ওই অঞ্চলে এমন সুড়ঙ্গের নির্মাণই হতো না।”

   

About

Popular Links

x