দক্ষিণ-পশ্চিম লিবিয়ায় ৬৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীর একটি গণকবরের খোঁজ মিলেছে। শুক্রবার (২২ মার্চ) জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা এমন তথ্য জানিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘‘লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী গণকবরটি উন্মোচন করেছে।’’
আইওএম বলেছে, এটি বিস্মিত করার মতো ঘটনা ও উদ্বেগজনক। তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি এখনও অজানা।
সংস্থাটির দাবি, মরুভূমির মধ্য দিয়ে পাচারের সময় তাদের মৃত্যু হতে পারে।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহে লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাত ও হত্যার পর থেকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সহিংস অস্থিতিশীলতা চলছে লিবিয়ায়। এই অঞ্চল হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারীদের উর্বর ভূমি। আর এই পাচারের সময় সেখানে অভিবাসীদের নির্যাতনের ঘটনা যেমন ঘটে। তেমনই ঘটে হত্যা কিংবা মৃত্যুর ঘটনাও।
লিবিয়ান কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আইওএম।
লিবিয়া কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থাকে মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইওএম মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘‘নিখোঁজ ও প্রাণহানির শিকারদের পরিবার তাদের প্রিয়জনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের পরিণতি জানতে চায় তারা।’’
এই মর্মান্তিক ঘটনা অভিবাসনপ্রত্যাশী পাচারের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিবাসনের বৈধ পথের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
আইওএম বলেছে, এসব মৃত্যু প্রমাণ করেছে অবৈধ অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আইওএম নিখোঁজ অভিবাসীদের নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এক দশক আগে শরণার্থী নিহতের রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৩ সালেই সবচেয়ে বেশি অভিবাসপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন রুটে যাত্রাপথে অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছে অন্তত ৮,৫৬৫ জন।
অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে। আর এই যাত্রা শুরুর প্রধান স্থানগুলোর মধ্যে আছে লিবিয়া।
এজন্য এসব রুটে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে আইওএম।



