জাতীয় নির্বাচনের পর রবিবার (২১ এপ্রিল) মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু ঘোষণা করেছেন, তিনিই নতুন সরকার গঠন করতে চলেছেন। ৯৩ আসনের পার্লামেন্টের ৮৬টি আসনের ফলাফল রবিবার ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৬৬টি আসন জিতেছে মুইজ্জুর দল। ফলে পরিষ্কার, মোহামেদ মুইজ্জুর দলই সরকার গঠন করবে।
মুইজ্জু এবছর নিজে ভোটে লড়েননি। তবে তার দল প্রচারে চীনের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছিল। মোহামেদ মুইজ্জু চীনপন্থি রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। মালদ্বীপের ভারতমুখি অভিমুখ বদলের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছিলেন তিনি। মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনা সরিয়ে দেওয়ার কাজও তিনিই করেছেন। ফলে তার দলের বিপুল ভোটে জয় মালদ্বীপকে আরও বেশি চীনমুখি করবে বলেই বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন।
এদিকে, মালদ্বীপের ভোটের দিকে নজর ছিল ভারত এবং চীন দুই পক্ষেরই। দীর্ঘদিন ধরে মালদ্বীপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারত। দ্বীপরাষ্ট্রটিকে বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক এবং সামরিক সাহায্য করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বাণিজ্য ক্ষেত্রেও মালদ্বীপের পাশে থেকেছে ভারত। করোনাভাইরাসের সময় মালদ্বীপকে টিকা দিয়ে সাহায্য করা হয়েছিল। মালদ্বীপের পার্লামেন্ট বরাবরই ভারতের বন্ধু হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু মুইজ্জু দেশের এই ভারতপন্থি অবস্থানের বিরোধিতা করেন। চীনপন্থি এই রাজনীতিবিদ চীনের সঙ্গে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে হাঁটেন। কিন্তু তার সমস্ত পদক্ষেপ পার্লামেন্টে গৃহীত হয়নি।
এবার যে পরিমাণ আসন নিয়ে মুইজ্জুর দল পার্লামেন্টে যাচ্ছে, তাতে চীনমুখি প্রকল্প গ্রহণে আর কোনো সমস্যা হবে না। বস্তুত, মুইজ্জু মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনাঘাঁটি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মালদ্বীপে আর একজনও ভারতীয় সেনাকে থাকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে একাধিক চুক্তি করেছেন তিনি। চীন যাতে মালদ্বীপে আরও বেশি বিনিয়োগ করে, তার জন্য একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন মুইজ্জু। এবার সেই প্রকল্পগুলো শুরু হবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভারত মহাসাগরের ওপর একটি ছোট দ্বীপ হলেও ভারত এবং চীনের কাছে মালদ্বীপের গুরুত্ব অনেক। কারণ, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে একটি কৌশলী এলাকায় মালদ্বীপের অবস্থান। সেখানে সেনা ঘাঁটি তৈরি করে ভারত মহাসাগরে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছিল ভারত। এবার সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হলে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হারাবে। অন্যদিকে এই একই কারণে চীনও মালদ্বীপের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াতে চায়। মালদ্বীপের ভোট চীনকেই আরও কাছে টেনে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।



