আবগারি দুর্নীতি মামলায় কারাগারে ৫০ দিন কাটানোর পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২৩ দিনের জন্য জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
শুক্রবার (১০ মে) সন্ধ্যায় দেশটির তিহার কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।
এদিকে কারামুক্তির পরই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন কেজরিওয়াল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
কারামুক্তির পর একটি গাড়িতে করে বাড়ির পথে রওনা দেন কেজরিওয়াল। এ সময় তার অনুসারীরা ‘‘ভারত মাতা কী জয়’’, ‘‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’’ ও ‘‘বন্দে মাতরম’’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
এরপর সবার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতেই কেজরিওয়াল ‘‘শীর্ষ আদালতের সব বিচারককে’’ ধন্যবাদ জানিয়ে ভোটারদের ‘‘স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর’’ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘‘আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই... আপনারা আমাকে আপনাদের আশীর্বাদ দিয়েছেন। আমি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, তাদের কারণেই আমি আপনাদের সামনে আছি। আমাদের দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।...’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম তাড়াতাড়ি আসব, এসে গেছি। চার হাজার বছরের পুরোনো দেশ ভারত মহান দেশ। কিন্তু যখনই এই দেশে কেউ একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করেছে, মানুষ তাদের কখনোই ছাড় দেয়নি। আজ দেশ সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।’’
কেজরি বলেন, ‘‘আমি শরীর, মন, সব দিক দিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়ছি। তবে ১৪০ কোটি মানুষকে মিলে এই নৈরাজ্যকে হারাতে হবে। আমি মানুষের কাছে আবেদন করব, আমাদের সকলকে মিলে এই দেশকে বাঁচাতে হবে।’’
আবগারি দুর্নীতি মামলায় গত ২১ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই জামিন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন, তবে তা খারিজ করে দেন আদালত। তারপরই সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানান এএপি সুপ্রিমো।
১০ মে তাকে ২৩ দিনের জন্য জামিন দেওয়া হয়। ১ জুনের পর নতুন করে জামিন না পেলে ভোটগণনার দিনে কেজরিওয়ালকে জেলেই কাটাতে হবে। তবে যেন জেলের বাইরে থাকতে পারেন, সেই আর্জি জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংঘভি। জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ জুন পর্যন্ত করার আবেদন জানান তিনি। তবে তাতে সরাসরি ‘‘না’’ বলে দিয়েছেন ভারতের শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন, ২ জুন কেজরিওয়ালকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অর্থাৎ ১ জুন লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণের সময় জেলের বাইরে থাকবেন আম আদমি পার্টির এ নেতা। কিন্তু পরদিনই তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।



