তাইওয়ান দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের পুনরায় করা দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ফোকাস তাইওয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও এলাকা নিয়ে বিরোধ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান এই অবস্থান নিয়েছে।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আন্তর্জাতিক আইন এবং সমুদ্র আইন অনুযায়ী দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জ এবং তাদের পার্শ্ববর্তী জলসীমার ওপর তাইওয়ানের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।”
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, “অন্য দেশগুলোর প্রতিযোগিতামূলক দাবির ফলে তাইওয়ানের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”
এই বিবৃতি ফিলিপাইন ও চীনের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পর দেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দুটি আইন পাস করেছেন, যেখানে দেশের সামুদ্রিক অধিকার এবং সাগরের রুট ও আকাশপথ নির্ধারণ করে দক্ষিণ চীন সাগরের নির্দিষ্ট অংশে তাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, চীন ২০১২ সালে ফিলিপাইন থেকে দখল করা একটি শোলের জন্য সীমারেখা ঘোষণা করেছে এবং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের বিস্তৃত দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের এই দাবির মধ্যে ফিলিপাইন, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ানের দাবিকৃত অঞ্চলগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “চীন দেশের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অধিকার সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে থাকবে।”
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের বেশিরভাগ দাবিকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করলেও চীন তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এবং আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তাইওয়ান, যাদের দক্ষিণ চীন সাগরে দুটি দ্বীপ রয়েছে—এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইপিং দ্বীপও রয়েছে-তারা ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাইওয়ান সতর্ক করে বলেছে, “চীনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”



