Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘বাংলাদেশি রোগী দেখব না’ ঘোষণার বিরোধিতা কলকাতার চিকিৎসকদের

‘বাংলাদেশি রোগী দেখব না’ ঘোষণায় কলকাতার হাসপাতাল ব্যবসায় ধাক্কা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:১৫ পিএম

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে হামলা ও ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে “বাংলাদেশি রোগী দেখব না” বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার কয়েকটি হাসপাতাল এবং কয়েকজন চিকিৎসক। যদিও এই ঘোষণার বিরোধিতা করে আসছে কলকাতার কয়েকটি বড় হাসপাতাল ও ডাক্তারদের একটা বড় অংশ। কলকাতার চিকিৎসকদের ও হাসপাতালগুলোর সংগঠনও বলছে, রোগীদের কোনো জাত, ধর্ম না দেখেই চিকিৎসা করা তাদের কর্তব্য।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পূর্ব ভারতের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সংগঠন জানিয়েছে বাংলাদেশের রোগী আসা প্রায় ৭০% কমে গেছে। ফলে যেসব হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের ওপর অনেকতাই নির্ভরশীল ছিল, তাদের কাছে এটা বড় ধাক্কা।

কলকাতার একটি হাসপাতাল ও দুইজন চিকিৎসকের বাংলাদেশি রোগী না দেখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসকও।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মানস গুমটা বিবিসিকে বলেছেন, “একজন চিকিৎসক হিসাবে কোনো বিশেষ দেশের বা বিশেষ ধর্মের রোগী দেখব না এটা বলা যায় না। ডাক্তার হতে গেলে যে শপথ নিতে হয়, এ ধরনের কথা তার পরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “একজন অপরাধীও আমাদের কাছে রোগী হিসাবে এলে তার চিকিৎসা করাটাই আমাদের অন্যতম শপথ।”

তার কথায়, “এটা একজন ডাক্তার হিসাবে এবং সংগঠন হিসাবে নৈতিকভাবে আমরা এটা বলতে পারি না ঠিকই, কিন্তু যে অল্প কয়েকজন ডাক্তার এরকম ঘোষণা করেছেন, তারা গভীর মানসিক যন্ত্রণা থেকেই এরকম বলেছেন বলে আমার ধারণা। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তাতে বিচলিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে- সেই যন্ত্রণা থেকেই হয়ত কয়েকজন ডাক্তার বা হাসপাতাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী অফিসার রূপক বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, “একজন রোগী তো রোগীই- তার তো কোনো জাত-ধর্ম থাকতে পারে না। আমাদের দায়িত্ব তিনি এলে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। বাংলাদেশি রোগী দেখব না, এটা বলা যায় না।”

হাসপাতাল ব্যবসায় ধাক্কা

বাংলাদেশি রোগীদের ভারতে আসা ব্যাপকভাবে কমে গেছে অগাস্ট মাস থেকে। রূপক বড়ুয়া বলেন, “আগে প্রতি মাসে গড়ে ভারতের মেডিকেল ভিসা দেওয়া হতো ২০ থেকে ২৫ হাজার। এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭০০ থেকে এক হাজার। তাও মূলত নতুন রোগী নয়- পুরনো রোগী। যাদের চেকআপ ইত্যাদি আছে, তারাই ভিসা পাচ্ছেন। তাই পুরো ভারতের হাসপাতাল শিল্পের ওপরেই বড় ধাক্কা এসেছে।”

ভারতের অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল গোষ্ঠী মনিপাল হাসপাতালের পূর্বাঞ্চলীয় চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. অয়নাভ দেবগুপ্তর বলেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে বাংলাদেশে অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে বহু রোগী ভারতের হাসপাতালগুলোতে আসতে পারছেন না। আমাদের হাসপাতালগুলোতেও বহির্বিভাগ এবং রোগী ভর্তি কমে গেছে। কিন্তু আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোনো অপারেশন আমাদের পিছিয়ে দিতে হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “তবে আমাদের যারা পুরনো রোগী, তাদের চিকিৎসায় যাতে ছেদ না পড়ে, সেজন্য আমরা টেলি-মেডিসিনের ব্যবস্থা করেছি। অনলাইন কনসাল্টেশনের সংখ্যাটা বাড়ছে।”

   

About

Popular Links

x