ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫০ দিনের সময়সীমা কমিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন নির্ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথে অগ্রগতি দেখা না গেলে রাশিয়াকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
এর মধ্য দিয়ে সাড়ে তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাত নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “অপেক্ষা করার কোনো মানে নেই। আমরা কোনো অগ্রগতি দেখছি না।”
এর আগে ১৪ জুলাই ট্রাম্প বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত শান্তিচুক্তি না হলে তিনি রাশিয়ার ওপর কড়া শুল্কারোপ করবেন। তবে এখন সেই সময়সীমা কমিয়ে ১০–১২ দিন নির্ধারণ করেছেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি পুতিনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চলতি মাসের শুরুতে বেঁধে দেওয়া ৫০ দিনের সময়সীমা কমিয়ে আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক চলাকালে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি নতুন একটি সময়সীমা দিতে যাচ্ছি... আজ থেকে ১০ বা ১২ দিনের সে সময়সীমা। অপেক্ষা করার কোনো কারণ নেই... আমরা কোনো অগ্রগতিই দেখতে পাচ্ছি না।”
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, তিনি এখন আর সেই বিষয়ে আগ্রহী নন। তবে ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে কিছুটা দ্বিধাও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি রাশিয়ার জনগণকে ভালোবাসি। আমি তাদের সঙ্গে এটা করতে চাই না।”
এদিকে পুতিনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়াকে দেওয়া সময়সীমার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই ইয়ারমার্ক।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “পুতিন কেবল শক্তির ভাষা বোঝেন। সেটিই এখন স্পষ্ট ও জোরালোভাবে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তবে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিমিত্রি মেদভেদেভ মনে করেন, ট্রাম্প সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার “খেলা” খেলছেন। আর এঈ “খেলা” যুক্তরাষ্ট্রকে একটি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেদভেদেভ লেখেন, “প্রতিটি নতুন সময়সীমার মানে হলো একেকটি হুমকি এবং তা যুদ্ধের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নয়, বরং তার (ট্রাম্পের) নিজ দেশের সঙ্গেই এই সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”



