Wednesday, September 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিশুর আইকিউ কীভাবে বাড়ানো সম্ভব?

খেলাধুলা শিশুর সময় নষ্ট করে-এমন ধারণা ঠিক নয়

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ এএম

শিশুর মেধা বিকাশ একটি ধীর ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একটা সময় পর্যন্ত ধারণা করা হতো ‘আই কিউ’ বা বুদ্ধিমত্তা নতুন করে বাড়ানো যায় না। বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা।

ভারতীয় শিশু বিশেষজ্ঞ স্মৃতি চৌধুরী গোয়েঙ্কার মতে, শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রে পড়াশোনার বাইরেও সৃজনশীল কাজে যুক্ত রাখা খুব জরুরি।

প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিন

শিশুর মনে নানা ধরনের প্রশ্ন আসবে-কেন আকাশ নীল, বৃষ্টি কীভাবে হয়, পাখি কীভাবে উড়ে ইত্যাদি। এসব প্রশ্নকে বিরক্তিকর মনে না করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। উত্তর জানা না থাকলে শিশুর সঙ্গে মিলে সেটি খুঁজে দেখুন। এতে তার কৌতূহল ও অনুসন্ধানী মনোভাব বাড়বে।

বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন

শিশুর বয়স অনুযায়ী গল্পের বই, ছবির বই বা তথ্যভিত্তিক বই পড়ার সুযোগ দিন। শুধু বই পড়িয়ে থেমে না থেকে গল্পের চরিত্র, ঘটনা বা পরিণতি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন। এতে ভাষাজ্ঞান, স্মৃতি ও কল্পনাশক্তির চর্চা হবে।

খেলতে দিন

খেলাধুলা শিশুর সময় নষ্ট করে-এমন ধারণা ঠিক নয়। খেলতে গিয়ে শিশু নিয়ম মানে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, সিদ্ধান্ত নেয় এবং নানা সমস্যার সমাধান করতে শেখে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় মুক্তভাবে খেলার সুযোগ থাকা উচিত।

তৈরি করার সুযোগ দিন

ব্লক, লেগো, কাগজ, রং, মাটি বা ঘরের নিরাপদ জিনিস দিয়ে শিশুকে কিছু বানাতে দিন। কী বানাবে, কীভাবে বানাবে-সবকিছু অভিভাবক ঠিক করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পেলে শিশুর সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে।

দৈনন্দিন কাজেও শেখান

শেখার জন্য সবসময় আলাদা পড়ার টেবিল প্রয়োজন হয় না। বাজারে গিয়ে জিনিস গোনা, রান্নার সময় উপকরণের পরিমাণ বোঝানো, ঘড়ি দেখে সময় শেখানো কিংবা খেলনা গুছিয়ে রাখার মাধ্যমে শিশুকে নানা বিষয় শেখানো যায়।

প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত ও অর্থবহ করুন

মোবাইল বা ট্যাব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বদলে কী দেখছে এবং কতক্ষণ দেখছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। বয়স উপযোগী শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখা যেতে পারে, তবে স্ক্রিনের পাশাপাশি বাস্তব খেলা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং বই পড়ার সময়ও রাখতে হবে।

ঘুম ও খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিন

শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা শিশুর সামগ্রিক সুস্থতার ভিত্তি তৈরি করে।

তুলনা নয়, উৎসাহ দিন

অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করলে অনেক সময় আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। সে কোথায় ভালো করছে এবং কোথায় আরও চেষ্টা করা দরকার-সেটি বোঝানোর চেষ্টা করুন। ভুল করলে বকা না দিয়ে ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুকে শুধু ‘বুদ্ধিমান’ বানানোর লক্ষ্য না রেখে তাকে কৌতূহলী, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। আনন্দের পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং পরিবারের ইতিবাচক সহযোগিতা শিশুর দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

   

About

Popular Links

x