Tuesday, August 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হিন্দু আইন সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস মতিয়া চৌধুরীর

হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল সংসদ উপনেতার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩৪ পিএম

সম্পত্তিতে হিন্দু ও বৌদ্ধ নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী।

সোমবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের একটি প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে ১১ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি নেওয়ার সময় সংসদ উপনেতা এ আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধি দল হিন্দু আইনের আওতায় নারী, লিঙ্গবৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী এবং দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইন সংশোধনের জন্য সংসদ উপনেতার সহায়তা চাইলে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলব।”

দাবির ন্যায্যতা ও যৌক্তিকতা স্বীকার করে তিনি বলেন, “তবে আপনাদের লেগে থাকতে হবে; সমাজের মানুষকে বোঝাতে হবে, জাগাতে হবে। হিন্দু আইন সংস্কারের দাবিতে জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সকালে রমনায় সংসদ উপনেতার সঙ্গে তার বাসভবনে দেখা করে প্রথম স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

সংস্কার পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ময়না তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘটক, সহসভাপতি সাংবাদিক সুভাষ সাহা, ভানুলাল দাস ও গোকুল কৃষ্ণ পোদ্দার, সিনিয়র সদস্য ও মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, সংস্কার পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক মুক্তা রাণী শেরপা, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, শুভ চন্দ্র দাস, অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দেব উপস্থিত ছিলেন।

লিঙ্গবৈষম্যহীন উন্নততর হিন্দু আইন পাসের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে কোনো ভূমিহীন রাখবেন না ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ মহৎ ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য বৈষম্যমূলক হিন্দু আইন সংশোধন করা জরুরি। কারণ বিদ্যমান আইন হিন্দু ও বৌদ্ধ নারীদের সবাইকে ভূমিহীন করেছে।

প্রচলিত আইন সংশোধন করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের সম্পূর্ণ অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়ে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়, পিতামাতার সম্পত্তিতে সন্তানরা (লিঙ্গপরিচয় নির্বিশেষে) সমান অধিকার পাবেন। একই সঙ্গে স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামী এক সন্তানের সমপরিমাণ উত্তরাধিকার পাবেন।

ধর্মান্তরিত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হরণের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মান্তরিতরা পূর্বপুরুষের ধর্ম, সংস্কৃতি, জীবনাচরণ ও পরিবার ত্যাগের সঙ্গে পূর্বপুরুষের সম্পত্তিতেও অধিকার ত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হবেন। দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, ধর্ম, সংস্কৃতি, পরিবার এবং সম্পত্তি রক্ষার প্রয়োজনে ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ করে সংসদে সুস্পষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইন পাস করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু আইনে পুরুষরা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যতগুলো ইচ্ছা বিয়ে করতে পারেন, যার কোনো আইনগত নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই আদালতের অনুমতি ছাড়া একাধিক বিবাহ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

   

About

Popular Links

x