Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাজ্যে সমকামিতা নিয়ে পড়ানোয় স্কুল প্রধানকে হুমকি!

মুসলিম অভিভাবকেরা শুধু বার্মিংহামের এই বিদ্যালয়ের পড়ানোর বিরোধিতাই করছেন না, একই রকম শিক্ষার বিরোধিতা করে তারা ইংল্যান্ডের বহু স্কুলে চিঠি পাঠিয়েছেন

আপডেট : ২১ মে ২০১৯, ০৫:১১ পিএম

সমকামিতা নিয়ে ক্লাসে পড়ানোয় ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এ কটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দিয়ে ইমেল ও ফোন করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিকে, বার্মিংহামের ওই বিদ্যালয় প্রধান সারাহ হেউইট-ক্লার্কসনের কাছে পাঠানো মেসেজ বা বার্তাগুলো নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

প্রতিবেদনটিতে বিবিসি আরো জানায়, “গত সাত সপ্তাহ ধরে অ্যান্ডারটন পার্ক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন অভিভাবকেরা। তারই অংশ হিসেবে সোমবার কয়েকশো শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আসতে দেয়া হয়নি। নতুন এ পাঠ্যসূচী পছন্দ করছেন না বলেই শিক্ষার্থীদের আসতে দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন  এক অভিভাবক।”

বিদ্যালয়ে প্রতিবাদকারীদের বিচরণ ঠেকাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য আলাদা একটা স্থান রাখার কথা বলেছেন বার্মিংহামের সংসদ সদস্য জেস ফিলিপ্স। চলমান এই প্রতিবাদকে 'আক্রমণাত্মক' বলে বর্ণনা করেছেন অ্যান্ডারটন পার্ক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেউইট-ক্লার্কসন।

তবে এই বিক্ষোভ শুধু মুসলিম বাবা-মায়েরাই করছেন বলেও ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। বিবিসি জানায়, “ছেলে-মেয়েদের ক্রস-ড্রেসিং এবং সমকামের প্রসঙ্গটি ওই বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত থাকায় মুসলিম অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হন।” 

মুসলিম অভিভাবকেরা শুধু বার্মিংহামের এই বিদ্যালয়ের পড়ানোর বিরোধিতাই করছেন না, একই রকম শিক্ষার বিরোধিতা করে তারা ইংল্যান্ডের বহু স্কুলে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের প্রসঙ্গে, প্রধান শিক্ষক ক্লার্কসন বলেছেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নামে আসলে যা চলছে তা খু্‌বই আক্রমণাত্মক এবং বিরক্তিকর।”

তবে ক্লার্কসনকে 'ইসলামোফোবিক' বা 'ইসলাম ভীতিতে' আক্রান্ত বলে কোনো কোনো অভিভাবক দাবী করলেও সেটিকে তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। বরং 'সব মানুষের সমান অধিকারে' বিশ্বাসী বলে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

ইংল্যান্ডের নীতি অনুযায়ী, আগামী ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'রিলেশানশিপ্স এডুকেশন' বা মানবীয় সম্পর্কের বিবিধ ধরণ বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

যারা আন্দোলন করছেন তাদের বিষয়ে ইঙ্গিত করে ইয়ান ওয়ার্ড বলেছেন, অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের কারিকুলাম বা পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তনের দাবী জানানো এক জিনিস। কিন্তু অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়া বা সমাজে ঘৃণা ছড়ানো বা ভুল তথ্য ছড়ানো একেবারেই ভিন্ন প্রসঙ্গ।


About

Popular Links