গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি বিড়াল মানুষের সঙ্গী হলেও কুকুর যেভাবে সহজে মানুষের সাথে মিশে যায়, বিড়ালের ক্ষেত্রে চিত্রটি ঠিক তেমন নয়। ফলে বিড়ালকে প্রায়শই ‘উদাসীন’ বা ‘স্বার্থপর’ প্রাণী বলে মনে করেন অনেকে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে বিড়ালের প্রতি মানুষের এই ধারণা একটি গভীর ভুল বোঝাবোঝির ফসল।
গবেষকরা জানান, কুকুরের মতো বিড়াল স্পষ্ট ভঙ্গিতে ভালোবাসা বা মনস্তাত্ত্বিক ভাব প্রকাশ করতে পারে না বলেই এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। কুকুরের মতো বিড়ালের চোখে কোনো বিশেষ পেশি নেই, যা দিয়ে তারা মায়াবী দৃষ্টি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বিড়াল যখন কোনো মানুষের দিকে তাকিয়ে ধীরগতিতে চোখের পাতা ফেলে বা ব্লিংক করে, সেটিই হলো তাদের ভালোবাসা প্রকাশের নিজস্ব উপায়।
আন্তর্জাতিক বিড়াল বিষয়ক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাট কেয়ার’-এর পশু চিকিৎসক ও ট্রাস্টি কারেন হিয়েস্ট্যান্ড জানান, মানুষ যেসব প্রাণীকে গৃহপালিত করেছে তার মধ্যে বিড়ালই একমাত্র প্রাণী যেটি মূলত একক ও অসামাজিক প্রকৃতির পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের নিওলিথিক যুগে বিড়াল প্রথম মানুষের লোকালয়ে প্রবেশ করে, তবে সেটিও ছিল ইঁদুর শিকারের নিজস্ব প্রয়োজনে। কুকুরের মতো বিড়াল খাবারের জন্য সরাসরি মানুষের ওপর নির্ভরশীল ছিল না।
বিড়ালের আচরণ বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস্টিন ভিটালে এক গবেষণায় জানান, কুকুরের কাছ থেকে মানুষ যেভাবে খোলামেলা উল্লাস আশা করে, বিড়ালের কাছ থেকে সেটি প্রত্যাশা করাই ভুল। কোনো বিড়াল যদি মালিক ঘরে ফেরার পর তাকে দেখে নিজের মতো ঘুরে বেড়ায় বা ঘরের জিনিসপত্র পর্যবেক্ষণ করে, তবে গবেষণায় এটিকে বলা হয় ‘সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট’ বা নিরাপত্তাজনিত সুসম্পর্ক। অর্থাৎ বিড়ালটি মালিককে দেখে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শান্ত অনুভব করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিড়াল কতটা সামাজিক হবে তা নির্ভর করে তার জীবনের প্রথম ছয় থেকে আট সপ্তাহের অভিজ্ঞতার ওপর। এ ছাড়া বিড়ালের সঠিক যত্ন, যেমন খাদ্য, পানি ও শোয়ার জায়গা ঠিকঠাক থাকলে এরা সহজে মানুষের সাথে আত্মিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিড়ালের অঙ্গভঙ্গি সঠিকভাবে বুঝতে পারলেই স্পষ্ট হবে যে তারা আসলেই মালিককে নিজের মতো করে ভালোবাসে।



