টিপ পরায় তেজগাঁও কলেজের শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগে এখন দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেক। ঘটনার পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সুরক্ষা বিভাগের কনস্টেবল নাজমুলকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করা হয়েছে।
যেকোনো অপরাধে অভিযুক্ত কোনো পুলিশ সদস্যের সাসপেন্ড অর্থাৎ সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। প্রায়ই গণমাধ্যমে পুলিশ সদস্যের সাসপেন্ড হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু সাসপেন্ড বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া একজন পুলিশ সদস্যের শাস্তি আসলে কী, সে বিষয়টি জানা নেই অনেকেরই।
একজন পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত হলে তাকে আসলে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা জেনে নেওয়া যাক-
- সাসপেন্ডেড বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্য যেখানে দায়িত্বরত ছিলেন, সেখানে তাকে আর দায়িত্বে রাখা হবে না। যেমন- টিপ পরা নিয়ে ঘটনার জেরে বরখাস্ত হওয়ায় নাজমুল তারেক আর ডিএমপি) সুরক্ষা বিভাগের কোথাও আপাতত দায়িত্বে থাকবেন না।
- সাসপেন্ডেড পুলিশ সদস্য শাস্তিকালীন সময়ে শুধুমাত্র বেতন স্কেল অনুযায়ী অর্ধেক পারিশ্রমিক পাবেন। অর্থাৎ তিনি শাস্তিস্বরূপ শুধুমাত্র মূল বেতনটাই পাবেন।
- পরবর্তীতে সাসপেন্ডেড পুলিশ সদস্যের পদোন্নতি সময় এলে পূর্ববর্তী অভিযোগের বিষয়টি তার পদোন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি তিনি যদি ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা দিয়েও পদোন্নতির চেষ্টা করেন, সেক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী অভিযোগ তার নেতিবাচক রেকর্ড হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন
- টিপ নিয়ে স্ট্যাটাস: সেই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
- নিজ পিস্তলের গুলির শব্দে ‘অজ্ঞান’ পুলিশ সদস্য
- টিপ পরা নিয়ে শিক্ষিকার ওপর চড়াও কনস্টেবল নাজমুল পুলিশ হেফাজতে
একজন পুলিশ সদস্য সাসপেন্ড তথা সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া মানেই যে তিনি কোনো অপরাধী তা কিন্তু না। মূলত কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। অন্যথায় তাকে স্বপদে পুনরায় বহাল রাখা বা বিভাগীয় নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।



