Thursday, July 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইসরায়েল-হামাস সংঘাত: ভুয়া খবর বুঝবেন যেভাবে

ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে অনলাইনে বিকৃত-ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এর মধ্যে থেকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বেছে নেওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:১৮ পিএম

সম্প্রতি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, প্রচুর হামাস যোদ্ধা প্যারাগ্লাইড করে ইসরায়েলে ঢুকে পড়েছে। সত্যিই কি তাই হয়েছিল? আরেকটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, বিখ্যাত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একটি ম্যাচের পর ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। এটাও কি সত্যি? ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরুর পর থেকে এরকম প্রচুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে।

ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেছে, ওপরে যে দুটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, দুটিই ভুয়া।

অনলাইনে বিকৃত ও ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এর মধ্যে থেকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বেছে নেওয়াটাও একটা চ্যালেঞ্জ। কীভাবে মানুষ জানতে পারবেন, মধ্যপ্রাচ্যে ঠিক কী ঘটছে?

সম্প্রতি অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের ডিজিটাল ফরেনসিক রিসার্চ ল্যাবের ম্যনেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ডি কারভিন বলেন, “ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের পর এখন তা নিয়ে এত বেশি মিথ্যা প্রচার, ভুল তথ্য, প্রোপাগান্ডা, বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, যা আগে আমি কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে দেখিনি।”

এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে মানুষ কীভাবে সঠিক তথ্য বেছে নেবেন, কীভাবে ভুয়া তথ্য এড়িয়ে যাবেন, তার পরামর্শ দিয়েছে ডিডাব্লিউর ফ্যাক্ট চেকিং টিম।

ভুয়া তথ্যের জের

সংঘাত চলাকালীন সময় অনেক তথ্য মানুষকে বিষণ্ণ, বিপর্যস্ত, উত্তেজিত করে তোলে। একটি ভিডিওর কথা বললে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ভিডিওটি পরীক্ষা করে ফ্যাক্ট চেকিং টিম জানিয়েছে, সেটি ভুয়া। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি সেনা দুটি ফিলিস্তিনি বাচ্চা মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। এমন ভিডিও মানুষের মনে রাগ, দুঃখ বা অন্য আবেগ তৈরি করতে পারে।

এসব ভিডিওর প্রভাবে সাধারণ মানুষ কোনো এক পক্ষকে সমর্থন করবে এবং অন্য পক্ষের নিন্দা করবে। ফেক নিউজ স্টোরি বা ভুয়া খবরের ভিডিও বা লেখা ঠিক এই কাজটিই করে। মানুষের আবেগকে প্রবলভাবে উসকে দেয়।

মনোবিদ স্তেফান লিউয়েনডাউস্কি ডিডাব্লিউকে বলেছেন, “ভুয়া খবর মানুষকে উত্তেজিত করে তোলে। আমরা জানি যে, মানুষ এ জন্যই ভুয়া তথ্য প্রচার করে। এই তথ্য খুব কম সময়ে ভাইরাল হয়ে যায়।”

ফলে একটু সাবধান হওয়ার দরকার আছে। নিচের প্রশ্নগুলো একবার পড়ে দেখুন। এটা পড়লেই বুঝবেন, কোন তথ্যের ক্ষেত্রে আপনার কী ধরনের সতর্কতা জরুরি।

ভিডিওটি দেখার পর বা লেখাটি পড়ে আপনার মনের অবস্থা কী হয়েছে? এটি কি আপনার ভালো লেগেছে বা আপনাকে উত্তেজিত করেছে? এই খবর প্রচার করার ক্ষেত্রে কার স্বার্থ থাকতে পারে? কেন সে এই তথ্য প্রচার করছে? এর বিতর্কিত উৎস সম্পর্কে কি কোনো ইঙ্গিত আছে?

সূত্র যাচাই করুন

কোনো সংঘাতের সময় অনেকেই নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে খবর পড়েন। আবার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসতে থাকা খবর পড়তে ভালোবাসেন। প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বস্ত গণমাধ্যম সাধারণত সঠিক খবর সরবরাহ করার চেষ্টা করে। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে পড়ুয়া ও খবর সরবরাহকারীর মধ্যে এই বিশ্বাসের সম্পর্কটা থাকে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথা থেকে এই খবরটা আসছে, সেটা জানা ও বোঝাটা খুব জরুরি। খবরের সূত্র জানা গেলে বুঝা যায় ভিডিও বা তথ্য কতটা ঠিক।

যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি কোনো ব্যক্তি চালায়, তাহলে আগে দেখুন ওই খবর আর কারা প্রকাশ করেছে। তারা আগে যে খবর প্রচার করেছে সেই খবরগুলোও দেখুন। তাহলে তাদের সম্পর্কে একটা আন্দাজ পাবেন। দেখার চেষ্টা করুন, কারা তাদের অর্থ দেয়। তারা কোনো সরকার বা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কি-না। 

এই অ্যাকাউন্টে একটি ওয়েবসাইটের কথা বলা থাকবে। সেখানে গিয়ে অ্যাবাউট আস-টা দেখুন। তাহলে এই খবরগুলো পেয়ে যাবেন। তাদের ভিডিওর ক্ষেত্রে পারলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করন। এর জন্য একটা ছবি বা স্ক্রিনশট তুলুন এবং গুগল ইমেজ বা টিন আইতে গিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করুন।

বিষয়বস্তু দেখুন

অক্টোবরের শুরুতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে। মিশর প্রচুর কামান নিয়ে গাজায় ঢুকেছে। তারাও সংঘাতে যোগ দিয়েছে। ডিডাব্লিউ ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই।

সামনে যেসব তথ্য আসছে, তা অন্য জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন, তারাও সেই খবর দিচ্ছে কি-না। এরপর ফ্যাক্টচেক ডট অরগের মতো অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে গিয়ে আপনি ভুয়া তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

   

About

Popular Links

x