Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মসজিদে একটি ডিম দান করলেন নারী, নিলামে বিক্রি হলো তিন লাখ টাকায়

ঈদ উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে দান সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটি

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম

ঘটনাটি ভারত শাসিত কাশ্মীরের। সেখানকার সোপোর জেলার মাল মাপানপুরা গ্রামের একটি মসজিদ কমিটি ঈদ উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নগদ অর্থ আর বিভিন্ন সামগ্রী দান হিসেবে সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

মসজিদ কমিটি বাড়ি বাড়ি গেলে যে যার সাধ্যমত দান করেন। কেউ নগদ অর্থ, কেউ থালা বাসন, মুরগি বা চাল দান করেন। সেখানে একটি ডিম দান করেন এক বৃদ্ধা নারী। সেই ডিমটি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটি। নিলামে ডিমটি ২ লাখ ২৬ হাজার রুপিতে (বাংলাদেশ মুদ্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা) বিক্রি হয়।

নাসির আহমেদ নামে মসজিদ কমিটির এক সদস্য বিবিসিকে বলেন, “আমরা দান সংগ্রহ করছিলাম। তার মধ্যেই একটা ছোট বাড়ি থেকে এক নারী মাথা নিচু করে বেরিয়ে আসেন। আমার কাছে এসে তিনি একটা ডিম দিয়ে বলেন তার দানটা যেন আমি গ্রহণ করি।”

তিনি বলেন,“অন্যান্য জিনিষগুলো তো বিক্রি করার জন্য দেওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠল ওই ডিমটা নিয়ে কী করা যায়। ভারতীয় ছয় টাকা দামের একটা সাধারণ ডিম ওটা। কিন্তু অত্যন্ত গরীব ওই নারী যে আবেগ নিয়ে খোদার নামে দান করেছিলেন, সেটাই ওই ডিমটাকে অমূল্য করে তুলেছে।”

তিনি জানান, মসজিদ কমিটির সদস্যরা আলোচনা করে ডিমটাকে নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, একটু ভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মসজিদের কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, ডিমটা তিনদিন পর্যন্ত নিলাম করা হবে। প্রতিদিনই নিলামের মাধ্যমে যারা ডিমটি কিনবেন, তারা পরে সেটি আবার ফেরত দেবেন। তিন দিন শেষে সর্বোচ্চ দরদাতা ডিমটি পাবেন। সবার দর হাঁকানো টাকা মসজিদের কোষাগারে জমা হবে।

ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ না করেই ডিমটাকে নিলামে তোলা হয়। নিলামে নাসির আহমেদ নিজেই দশ ভারতীয় টাকা নিয়ে নিলামে প্রথম দর হাঁকেন।

নাসির আহমেদ জানান, প্রথম দুদিনে ১০, ২০, ৩০ আর ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত দর উঠেছিল। শেষ দিনের নিলামে হাজির ছিলেন সোপোরের ব্যবসায়ী দানিশ হামিদ।

শেষ দিনে নিলামে দুবার হাঁক দেওয়া হয়েছিল ৫৪ হাজার রুপি। এরপর দানিশ হামিদ দর হাঁকেন ৭০ হাজার। এভাবেই নিলামে ওই একটি ডিমের বিপরীতে মসজিদের কোষাগারে মোট দুই লাখ ২৬ হাজার ৩৫০ রুপি জমা হয়।

গ্রামের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান তারিক আহমেদ বিবিসিকে বলেন, “আড়াইশো মানুষের এই গ্রামে বড় জামাতের মসজিদ ছিল না। সেজন্যই একটা বড় মসজিদ বানানোর কাজ শুরু করেছিলাম আমরা। কিন্তু তহবিলের অভাবে ছাদ পর্যন্ত বানিয়ে আর কাজ এগোনো যায়নি।”

তবে একটি ডিমের বিপরীতে এত টাকা সংগ্রহ করা যাবে, সেটি তারা কখনো ভাবেননি বলে জানান।

সর্বোচ্চ দরে হাঁকিয়ে ডিমটি পাওয়া দানিশ হামিদ জানান, তিনি ডিমটি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখার জন্য একটি ফ্রেম বানাচ্ছেন।

তিনি বলেন,“আমার মনে হয় সত্যিকারের অনুভূতির কোনো মূল্য হয় না। আর তাই এই ডিমটা আমার বাড়িতে সবসময়ে সাজিয়ে রেখে দেওয়া হবে, যাতে ভেঙে না যায়।”

   

About

Popular Links

x