Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক লাখ ভোটের ব্যবধানে জিততে না পারার আক্ষেপ আইভীর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘তৈমুর কাকা অনুমতি দিলে মিষ্টি নিয়ে তার বাসায় যাবো। অনুমতি না দিলেও যাবো’

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:২২ এএম

ভোট গ্রহণ যদি ধীরগতিতে না হতো তাহলে জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ থাকতো বলে মন্তব্য করেছেন টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরাজিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “সারাদিন নারায়ণগঞ্জে গণমাধ্যম ছিলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিলো। তাহলে ইঞ্জিনিয়ারিংটা হলো কোথায়?”

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে চুনকা কুটিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, “ভোটের সময় বরং আমি অভিযোগ করেছি ভোট স্লো হচ্ছে। তবে এখানে তৈমূর কাকা যা বলেছেন, তিনি কি ধরণের কারচুপি পেয়েছেন আমি জানি না। দেশবাসী দেখেছেন মিডিয়া দেখেছে নারায়ণগঞ্জবাসী দেখেছে এখানে একটি সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। ভোট স্লো না হলে আরও ভালো হতো।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয় উৎসর্গ করে তিনি বলেন, “আমার এ জয় আমার নেত্রীর জন্য উৎসর্গ করছি। এ বিজয় আমার দলের, নারায়ণগঞ্জবাসীর। আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার নেত্রীর প্রতি। যিনি আমার হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন। আমার দল আমার ওপর আস্থা নিয়ে আমার জন্য কাজ করেছে। তাই তাদের সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। আরও কৃতজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জের জনসাধারণের প্রতি, আমার ভোটারদের প্রতি, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।”

আগামী ৫ বছরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী আমাকে আরও পাঁচ বছর কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আমি আমার জীবনের শেষ বিন্দু পর্যন্ত কাজ করে যেতে চাই। সব ধরণের বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।”

নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং ছিল কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং হয়। তবে এটা কোনো অংশে কম না। একেকটার একেক ধরণ। কারণ নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এ সব কিছুকে নিয়েই জয়টা নিয়ে আসা আমাদের জন্য সাফল্য। পরপর জয়ের সর্বশক্তি আমার জনগণ আমার জনগণের সমর্থন। জনগণের সমর্থন যদি না থাকতো তাহলে আমি এ নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।

তিনি আরও বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য আমি কখনো মিথ্যা বলি নাই। অযথা আশ্বাস দেই নাই। আমি গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আমি সহজ সরলভাবে কাজ করেছি। যেটা পেরেছি সেটাই করেছি। যেটা পারি নাই সেটা করি নাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবেসেছি। তাই জনগণ আমাকে বার বার এ ভালোবাসা দিয়েছে। দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে।”

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাটি উল্লেখ করে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী আবার প্রমাণ করলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাটি। আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জেই হয়েছিলো।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমি সারাজীবন দলের হয়ে কাজ করবো। জয় বাংলা বলবো। কিন্তু সকল কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করে যাবো। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবো।”

তিনি বলেন, “তৈমুর কাকা অনুমতি দিলে মিষ্টি নিয়ে তার বাসায় যাবো। অনুমতি না দিলেও যাবো।” সর্বশেষ নারায়ণঞ্জবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “যা কথা দিয়েছি সকল কাজ করবো এবং তৈমুর কাকা যা বলেছেন তাও মাথায় রেখে কাজ করবো।”

এদিকে মেয়র আইভীর নিরঙ্কুশ বিজয়ে দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটিরকে ঘিরে বসেছে উৎসবের হাট। রবিবার রাত ৮টায় বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পর ৬৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ভীর জমাচ্ছে তার বাড়িতে। শুধু এক নজর দেখার আশায়।

উল্লেখ্য, টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯২টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট। এর আগে ২০১১ সালে বিদ্রোহী প্রার্থী ও ২০১৬ সালে নৌকা প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হোন।

About

Popular Links