Wednesday, June 17, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোলের পর কেন কেঁদেছেন মেসি? জানালেন নিজেই

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে এই প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি 

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী ফুটবল খেলে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি ভেঙেছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড। তবে ম্যাচ শেষে মাঠের সেই চেনা হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্য মেসিকে দেখলো ফুটবল বিশ্ব।

দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক রাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এটি বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ১৬ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসান। 

কিন্তু প্রথম গোলটি করার পর কেন তার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়েছিল, ম্যাচ শেষে তার এক আবেগঘন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মেসি জানান, ফুটবল মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক অত্যন্ত কঠিন ও জটিল সময় পার করছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভেতরের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। 

মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, এটি সম্পূর্ণ খেলাধুলার বাইরের একটি বিষয়। আমি গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি। তবে আমি আমাদের পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে যাতে আমি মাঠে ঠিক থাকতে পারি।”

এই কঠিন পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও এটা স্পষ্ট যে, এক বিশাল মানসিক চাপ ও আবেগঘন বোঝা মাথায় নিয়েই তিনি বিশ্বকাপের এই বিশেষ মিশনটি শুরু করেছেন।

নিজের বর্তমান ফুটবল জীবন নিয়ে মেসি বলেন, “আমি এখন যা উপভোগ করছি তার সবই আমার জন্য বাড়তি পাওনা। দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করার ভাগ্য নিয়ে এসেছি। আজ আমি একটি চমৎকার দল উপভোগ করছি, মাঠে ভালো বোধ করছি।”  

ম্যাচের প্রথমার্ধের কঠিন লড়াই নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, “আমরা জানতাম আলজেরিয়া খুব গতিশীল ও শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা একটি দল। যদি আমরা তাদের পায়ে বল বেশি সময় রাখতাম, তবে তারা আমাদের বিপদে ফেলতে পারত। প্রথমার্ধে আমাদের বল পজিশন রাখতে কিছুটা কষ্ট হলেও রক্ষণভাগে আমরা দারুণ ছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলা পুরোপুরি বদলে যায়।”

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের (সৌদি আরবের বিপক্ষে হার) অভিজ্ঞতা মাথায় ছিল। এই বিশ্বকাপে কোনো দলই কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দেবে না, প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে জানান মেসি। 

ফুটবলের প্রতি নিজের চিরন্তন ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে টেনিস কিংবদন্তি রাফা নাদালের উদাহরণ টানেন মেসি।

তিনি বলেন, “আমি যখন মাঠে থাকি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা সম্প্রতি রাফা নাদালের একটি সিরিজ দেখছিলাম এবং আমি তার সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছি। আমরা দুজনেই এই দিক থেকে এক রকম যে, মাঠে নামলে সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই। যতদিন শরীর সায় দেবে, আমি এভাবেই দলকে সাহায্য করে যাব।”

মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবনের শত ঝড় সামলেও মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। কোচের ভালোবাসা এবং দলের সমর্থনে এই মানসিক চাপ জয় করেই আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টের প্রথম দুর্দান্ত জয় এনে দিলেন এই ফুটবল জাদুকর।

   

About

Popular Links

x