দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে দেখা মিলল আসল রোমাঞ্চের। এক লাল কার্ডেই পাল্টে গেল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রক্ষণ। সেই সুযোগে শেষ মুহূর্তের গোলবন্যায় বসনিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। এই বড় জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের পথে ভালোভাবেই টিকে রইল সুইসরা।
প্রথমার্ধে প্রায় ৭০% বল দখলে রেখেও আক্রমণভাগের ধারহীনতায় গোল পায়নি সুইজারল্যান্ড। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সুইসদের সামনে, চমৎকার দুটি সেভে তিনি হতাশ করেন ড্যান এনডোয়ে ও ব্রিল এমবোলোকে।
অবশেষে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে ভাঙে বসনিয়ার সেই প্রতিরোধ। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় জোরাল সাইড ভলিতে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তরুণ মিডফিল্ডার ইয়োহান মানজাম্বি। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ছয় মিনিট পর আরও এক বড় ধাক্কা খায় বসনিয়া; ফরোয়ার্ড এমবোলোকে ডি-বক্সের বাইরে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া প্রতিপক্ষের ওপর এরপর আরও চড়াও হয় সুইজারল্যান্ড। ৮৪তম মিনিটে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মানজাম্বির সঙ্গে বদলি নামা রুবেন ভার্গাস। আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ভার্গাসের পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মানজাম্বি, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বদলি খেলোয়াড় হিসেবে জোড়া গোলের অনন্য রেকর্ড গড়েন এই তরুণ।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে নাটকীয়তা রূপ নেয় চরমে। বদলি নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় বুলেট গতির শটে বসনিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ করেন এরমিন মাহমিচ। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে জিব্রিল সো ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে সফল স্পট কিকে দলের ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। এই দাপুটে জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রইলো সুইজারল্যান্ড।
সুইজারল্যান্ড নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে কানাডার বিপক্ষে ২৪ জুন রাত ১টায়। একই দিন একই সময়ে কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বসনিয়া।



